বাংলাদেশে আগামী একশ বছরেও আর কোনো গণঅভ্যুত্থান হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। শনিবার (১১ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনীতি: সংকট, সম্ভাবনা ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
বক্তব্যে রুমিন ফারহানা বলেন, সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানকে ঘিরে মানুষের যে স্বপ্ন ও প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি বলে অনেকের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মানুষ যখন মনে করে একটি আন্দোলনের সুফল সবার পরিবর্তে নির্দিষ্ট কিছু মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে, তখন ভবিষ্যতে একই ধরনের আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আগে তারা বহুবার চিন্তা করবে।
তিনি আরও দাবি করেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশে উগ্রবাদের উত্থান ঘটেছে। তার মতে, যদি আন্দোলনের পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে মানুষ আগে থেকেই ধারণা পেত, তাহলে অনেকেই হয়তো আন্দোলনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতেন।
আলোচনা সভায় রুমিন ফারহানা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায়ের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের পরও সাধারণ মানুষ বারবার প্রত্যাশিত সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তার মতে, দেশের জনগণ বিভিন্ন সময়ে ত্যাগ স্বীকার করলেও বারবার প্রতারিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম, জেএসডির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তানিয়া রব, রাজনৈতিক বিশ্লেষক হেলালুজ্জামান আহমেদ, জেএসডির সহসভাপতি নুরুল আখতার এবং সিরাজ মিয়াসহ অন্যান্য বক্তারা। তারা গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা, সংকট এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে নিজ নিজ মতামত তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, রুমিন ফারহানার এসব মন্তব্য তার রাজনৈতিক বক্তব্যের অংশ। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য রাজনৈতিক দল বা পক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
কসমিক ডেস্ক