টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার অধিকাংশ এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সীমান্তবর্তী ফারুয়া ইউনিয়নে, যেখানে বাজার, ঘরবাড়ি, সড়ক এবং জনপদ পানির নিচে চলে গেছে। ফলে হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এবং অনেক পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, ফারুয়া বাজার, চাইন্দ্যা, উলুছড়ি, তক্তানালা, একগুজ্জাছড়ি, গোইয়ানছড়ি, শুক্কুরছড়ি ও যমুনাছড়িসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বর্তমানে পানিতে নিমজ্জিত। বিশেষ করে ফারুয়া বাজারের প্রায় ১৫০টি দোকান জলমগ্ন হওয়ায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য। এতে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও স্থবির হয়ে পড়েছে।
বন্যার পানি ঘরবাড়িতে প্রবেশ করায় অসংখ্য পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে স্থানীয় ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে অবস্থান নিয়েছে। তবে আশ্রয়কেন্দ্রের সীমিত ধারণক্ষমতার কারণে অনেককে গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বিলাইছড়িতে বর্তমানে চারটি আশ্রয়কেন্দ্র চালু রয়েছে, যেখানে শতাধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
এদিকে রাইংক্ষ্যং নদীর তীব্র স্রোতের কারণে উপজেলা সদর থেকে ফারুয়া ইউনিয়নে নৌপথে যাতায়াত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে সরকারি ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা দুর্গত মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। প্রশাসন বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে স্থানীয় বাজার থেকেই চাল, ডাল, তেলসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করে দুর্গতদের মধ্যে বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে।
ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তঞ্চঙ্গ্যা জানিয়েছেন, রাতভর ভারী বৃষ্টির পর ভোর থেকেই নিম্নাঞ্চলের প্রায় সব গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি পানির নিচে চলে যাওয়ায় তারা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রুহুল আমিন জানান, নদীর স্রোত কমলেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে বড় পরিসরে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। একইসঙ্গে উপজেলা প্রশাসন পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন বলেন, পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে নদীর প্রবল স্রোতের কারণে দুর্গত এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েকদিনও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে রাঙামাটির বিলাইছড়িতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার পাশাপাশি নতুন করে ভূমিধসের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই স্থানীয় প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
কসমিক ডেস্ক