টানা অতিভারী বর্ষণে বান্দরবানের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। শুক্রবার রাত থেকে শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টিপাতে আগের দিন পানি নেমে যাওয়া বিভিন্ন এলাকা আবারও প্লাবিত হয়েছে। এতে জেলার নিম্নাঞ্চলগুলো নতুন করে জলাবদ্ধতায় পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়েছে।
জেলা শহরের আর্মিপাড়া, মেম্বারপাড়া, ইসলামপুর, ওয়াপদা ব্রিজ এলাকা, ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন অঞ্চল, বালাঘাটা, কালাঘাটা, ক্যাওচিং পাড়া, মুসলিম পাড়া ও শেরে বাংলা নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবার সন্ধ্যায় পানি কিছুটা কমলেও রাতভর বৃষ্টিতে আবারও পানি বৃদ্ধি পেয়ে কোথাও কোথাও প্রায় ৮ ফুট পর্যন্ত পৌঁছেছে।
প্রবল বর্ষণের কারণে শনিবার সকালে বাসস্ট্যান্ড থেকে রেইচা লম্বা রাস্তা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের খুঁটির ওপর। এতে একদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে, অন্যদিকে সড়ক যোগাযোগও বারবার বন্ধ হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে বান্দরবান-কেরানিহাট সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়া শহরের বালাঘাটা এলাকায় প্রায় ৪ ফুট পানি জমে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে জরুরি যাতায়াত, পণ্য পরিবহন এবং উদ্ধার কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, শনিবার দুপুর ১২টার দিকে সাঙ্গু নদীর পানি বান্দরবান শহর পয়েন্টে বিপৎসীমার প্রায় ২ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। যদিও মাতামুহুরী নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তবুও অব্যাহত বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে ভূমিধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সড়ক থেকে উপড়ে পড়া গাছ অপসারণ, বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরুদ্ধার এবং বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে। তবে টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক