টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। হ্রদে পানির প্রবাহ বাড়ায় দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বেড়েছে। সর্বশেষ তিন দিনের ব্যবধানে কেন্দ্রটির উৎপাদন আরও ৩৫ মেগাওয়াট বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে ১৭৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে অব্যাহত বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদে পানির পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে। পানির স্তর বৃদ্ধির কারণে ধাপে ধাপে কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু করে ১৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছিল। তবে হ্রদে পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ায় শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে অতিরিক্ত ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে কেন্দ্রটির সবকটি ইউনিট সচল রয়েছে এবং জাতীয় গ্রিডে মোট ১৭৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।
কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সর্বোচ্চ উৎপাদন ক্ষমতা ২৪২ মেগাওয়াট। যদিও বর্তমানে সেই সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করা হচ্ছে না, তবে পানির স্তর অনুকূলে থাকায় উৎপাদন আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ৯০.৩১ এমএসএল (মিন সি লেভেল)। অথচ রুলকার্ভ অনুযায়ী এ সময়ে পানির স্বাভাবিক উচ্চতা থাকার কথা ছিল ৮৫.৪৪ এমএসএল। অর্থাৎ নির্ধারিত মানের তুলনায় হ্রদে প্রায় পাঁচ ফুট বেশি পানি রয়েছে।
তিনি আরও জানান, কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ এমএসএল। বর্তমানে পানির স্তর নিরাপদ সীমার মধ্যেই থাকলেও বর্ষণ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ও পানি ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি দেশের জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। এতে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমে এবং তুলনামূলক কম ব্যয়ে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হয়।
অন্যদিকে, অতিবৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা থাকলেও কাপ্তাই হ্রদের পানি ব্যবস্থাপনা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।
বর্তমানে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বৃদ্ধি জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে এই অতিরিক্ত উৎপাদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কসমিক ডেস্ক