ডিসেম্বরে দেশে ফিরে নেতাকর্মীসহ ‘আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা’ হাসিনার The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ডিসেম্বরে দেশে ফিরে নেতাকর্মীসহ ‘আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা’ হাসিনার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 10, 2026 ইং
ডিসেম্বরে দেশে ফিরে নেতাকর্মীসহ ‘আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা’ হাসিনার ছবির ক্যাপশন:

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তিনি এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা আগামী ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা করছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া প্রায় এক ঘণ্টার টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে, এমনকি হত্যার শিকারও হতে পারেন বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। তবুও তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। তার ভাষায়, "আমি দেশে ফিরলে তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি হত্যাও করতে পারে। তারপরও আমাকে ফিরতে হবে।"

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বর্তমানে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও বিভিন্ন ধরনের নিপীড়নের অভিযোগ তুলে শেখ হাসিনা বলেন, যদি মৃত্যুই তার ভাগ্যে থাকে, তবে সেটি নিজের দেশেই হোক—যেখানে তার বাবা-মা সমাহিত আছেন।

২০২৪ সালের গণআন্দোলনের পর ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। পরবর্তীতে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান দমনে প্রাণঘাতী অভিযানের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করে। তবে সাক্ষাৎকারে তিনি এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন এবং দাবি করেন, তিনি আদালতের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত।

শেখ হাসিনা জানান, তিনি একা নন; আওয়ামী লীগের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা, যাদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল রয়েছেন, তারাও দেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণ করার পরিকল্পনা করছেন। যদিও তিনি নির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা কোন আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।

সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, সরকার তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারতের কাছে একাধিকবার অনুরোধ করেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তবে তিনি দাবি করেন, কোনো বিদেশি সরকারের সহযোগিতা নয়, নিজের সিদ্ধান্তেই দেশে ফিরবেন।

গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং বিচারব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, এসব বিষয় গোপন আলোচনার বিষয় নয়। তার মতে, দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের প্রতি বিচারব্যবস্থা কী ধরনের আচরণ করে, সেটিও জনগণ দেখতে পাবে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, দল পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১২৫টিতে অনলাইন বৈঠক সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, দলের প্রায় সব পর্যায়ের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং অনেকে আত্মগোপনে থাকতে বাধ্য হয়েছেন।

কারাবাস নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে শেখ হাসিনা বলেন, অতীতেও তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়েছেন। ১৯৮১ সালে দেশে ফেরার পর সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময় তাকে আটক করা হয়েছিল। পরে ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দি হন এবং মুক্তি পাওয়ার পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে আবার ক্ষমতায় ফিরে আসেন।

দেশ ছাড়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৪ সালে তার সরকারি বাসভবনের দিকে বিক্ষোভকারীরা এগিয়ে আসছিল এবং তখন তার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর হুমকি তৈরি হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা কোনো সরকারেরই ভুল হতে পারে, তবে সেই ভুলের বিচার করার অধিকার জনগণের।

আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যদি তার বিরুদ্ধে আদালতের রায় থেকে থাকে, সেটি তিনি মোকাবিলা করবেন। তবে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার জনগণের হাতেই থাকা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
২-০ থেকে ৩-২, অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে শেষ আটে মেসিবাহিনী

২-০ থেকে ৩-২, অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে শেষ আটে মেসিবাহিনী