সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় ফুটবল খেলা দেখতে বাড়ি থেকে বের হওয়ার দুই দিন পর সবুজ (৩৫) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১০ জুলাই) ভোরে উপজেলার হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের হাসাকোলা গ্রামের একটি রাস্তার পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
নিহত সবুজ শাহজাদপুর উপজেলার রতনকান্দি উত্তরপাড়ার বাসিন্দা এবং রহিম সরকারের ছেলে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, বুধবার (৮ জুলাই) রাত ১০টার দিকে ফুটবল খেলা দেখার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। এরপর থেকে তার সঙ্গে পরিবারের আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, নির্ধারিত সময় পার হলেও সবুজ বাড়িতে না ফেরায় তারা আত্মীয়-স্বজন ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তবে দুই দিনেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে শুক্রবার সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে রাস্তার পাশে একটি মরদেহ পড়ে থাকার খবর পান তারা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের স্ত্রী মিতু মরদেহটি তার স্বামী সবুজের বলে শনাক্ত করেন। আকস্মিক এই ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা শোকাহত হয়ে পড়েন।
ঘটনার খবর পেয়ে শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, নিহতের শরীর ও চোখে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে কী কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বা এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কিনা, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ওসি আরও বলেন, নিহত সবুজের বিরুদ্ধে চুরি ও ডাকাতিসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে এবং তিনি একটি চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য ছিলেন বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। তবে তার মৃত্যুর সঙ্গে এসব মামলার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং প্রাথমিক তদন্তের তথ্য হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে শাহজাদপুর থানা পুলিশ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ বা হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি পুলিশ।
স্থানীয়দের মতে, ঘটনাটি রহস্যজনক এবং দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা প্রয়োজন। এদিকে নিহতের পরিবারও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
কসমিক ডেস্ক