উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনকে ঘিরে বহু রহস্যের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো তার মায়ের পরিচয়। গত দেড় দশকের শাসনামলে তিনি কখনো প্রকাশ্যে নিজের মায়ের নাম উল্লেখ করেননি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নীরবতার পেছনে রয়েছে উত্তর কোরিয়ার বংশানুক্রমিক ক্ষমতা কাঠামোর সংবেদনশীল বাস্তবতা।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রচারণায় ‘মাউন্ট প্যাকতু’ বা প্যাকতু পর্বতের রক্তধারাকে শাসক পরিবারের বৈধতার প্রধান ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়। এই বংশধারাকে পবিত্র ও বিশুদ্ধ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, যার কারণে কিম জং উনের ক্ষমতায় আসাও অনেকাংশে পারিবারিক উত্তরাধিকারের সঙ্গে যুক্ত বলে ধরা হয়।
তবে গবেষকদের মতে, কিমের মা কো ইয়ং হুই উত্তর কোরিয়ায় জন্মগ্রহণ করেননি। তিনি ১৯৫২ সালে জাপানের ওসাকায় জন্ম নেন। তার পরিবার ছিল কোরীয় বংশোদ্ভূত এবং পরে উত্তর কোরিয়ায় চলে আসে। উত্তর কোরিয়ার কঠোর সামাজিক শ্রেণিবিন্যাসে বিদেশফেরত পরিবারগুলোকে অনেক সময় নিচু মর্যাদায় দেখা হতো বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে।
পরবর্তীতে কো ইয়ং হুই নৃত্যশিল্পী হিসেবে পরিচিতি পান এবং উত্তর কোরিয়ার তৎকালীন নেতা কিম জং ইলের ঘনিষ্ঠ হন। তাদের ঘরে জন্ম নেওয়া সন্তানদের একজন ছিলেন কিম জং উন। তবে তাদের সম্পর্ক দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে স্বীকৃতি পায়নি বলেও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে বলা হয়।
২০০৪ সালে কো ইয়ং হুই মারা যাওয়ার পর কিম জং ইলের সম্ভাব্য উত্তরাধিকারীদের মধ্যে নানা পরিবর্তন ঘটে। বড় ভাই কিম জং নাম ও মেজ ভাই কিম জং চুল বিভিন্ন কারণে উত্তরাধিকার প্রতিযোগিতা থেকে সরে পড়েন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। ফলে ২০১১ সালে কিম জং ইলের মৃত্যুর পর কিম জং উন ক্ষমতায় আসেন।
বিশ্লেষকদের মতে, কিম জং উনের পারিবারিক ইতিহাস নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বর্ণনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। তাই তার মায়ের পরিচয় এখনও দেশটির সবচেয়ে সংবেদনশীল রাজনৈতিক বিষয়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।
কসমিক ডেস্ক