অবৈধ ওয়াকি-টকি ও অন্যান্য বেতার যোগাযোগ যন্ত্র ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় লাইসেন্সবিহীন টেলিযোগাযোগ যন্ত্রপাতি ও স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিটিআরসি জানায়, অবৈধ টেলিযোগাযোগ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় নিয়মিত যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে লাইসেন্স ছাড়া ব্যবহৃত ওয়াকি-টকি জব্দ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় মামলা দায়ের করা হচ্ছে।
সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১ (সংশোধনী-২০২৬) অনুসারে যেকোনো ধরনের ওয়াকি-টকি বা বেতার যোগাযোগ যন্ত্র ব্যবহার, সংরক্ষণ, আমদানি, বিপণন কিংবা পরিচালনার জন্য বিটিআরসি থেকে নির্ধারিত তরঙ্গ বরাদ্দ এবং বেতার যন্ত্রের লাইসেন্স গ্রহণ বাধ্যতামূলক।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া এসব যন্ত্র ব্যবহার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, নিরাপত্তা সেবা প্রদানকারী সংস্থা, হোটেল, রেস্তোরাঁ, শপিং মলসহ সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিটিআরসি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তাদের অনুমোদন ও বৈধ লাইসেন্স ছাড়া কোনো ধরনের বেতার যোগাযোগ যন্ত্র বা ওয়াকি-টকি ব্যবহার করা যাবে না। অবৈধ ও লাইসেন্সবিহীন যন্ত্র শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, সুষ্ঠু বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থা পরিচালনা এবং জনস্বার্থ রক্ষার জন্য সকলকে বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও বিধিবিধান মেনে চলতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধ বেতার যন্ত্রের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অননুমোদিত বেতার যোগাযোগ যন্ত্র ব্যবহারের কারণে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার ঝুঁকি থাকে। তাই লাইসেন্সিং ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্ধারিত ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কসমিক ডেস্ক