রাজধানীর গ্রিন রোডে অবস্থিত Green Life Hospital-এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক পৌনে ১২টার দিকে এই আগুন লাগার ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালের ছয় ও সাততলা থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। আগুনের সূত্রপাত ঠিক কোথা থেকে হয়েছে তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে ধোঁয়া দেখা যাওয়ার বিষয়টি দ্রুতই সংশ্লিষ্টদের নজরে আসে এবং সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পাওয়ার পরপরই Fire Service and Civil Defence Bangladesh দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের অন্তত দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বলে নিশ্চিত করেছেন কর্তৃপক্ষ।
ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রাফি আল ফারুক জানান, হাসপাতালের ওপরের তলাগুলোতে ধোঁয়া দেখা যাওয়ার পর তাদের ইউনিটগুলো দ্রুত সেখানে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও ইউনিট মোতায়েন করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাসপাতালের ভেতরে থাকা রোগী, তাদের স্বজন এবং কর্মরত চিকিৎসক ও স্টাফদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। অনেকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন, যার ফলে সাময়িকভাবে কিছুটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আগুন লাগার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা, জরুরি পরিস্থিতিতে রোগী সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি এবং ভবনের নিরাপত্তা মানদণ্ড—এসব বিষয় এখন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এলে আগুনের কারণ অনুসন্ধান এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে তদন্ত শুরু করা হবে বলে জানা গেছে।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার দিকে যাচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক