দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ আবারও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। চলতি বছরে হামের পাশাপাশি ডেঙ্গুর সংক্রমণও দ্রুত বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ জনে।
বুধবার (২৪ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া দুজনই ময়মনসিংহ বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকার বাসিন্দা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৫ হাজার ৩১৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৫৭ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।
এদিকে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন অধিকাংশ রোগী। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৯১৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন আরও ১১৯ জন রোগী।
চলতি বছরের মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জুন মাসেই সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। জুন মাসের এখন পর্যন্ত ২ হাজার ১২০ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে, যা বছরের অন্য যেকোনো মাসের তুলনায় বেশি।
মাসভিত্তিক শনাক্তের সংখ্যা অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ১ হাজার ৮১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯ জন, মার্চে ৩৫৩ জন, এপ্রিলে ৬৪০ জন এবং মে মাসে ৭১৪ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছিল।
শুধু আক্রান্তের সংখ্যাই নয়, মৃত্যুর দিক থেকেও জুন মাস সবচেয়ে উদ্বেগজনক। চলতি বছরের মোট ১২ জন মৃত্যুর মধ্যে জুন মাসেই প্রাণ হারিয়েছেন ৭ জন। এছাড়া জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুইজন করে মোট চারজন এবং মে মাসে একজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় এডিস মশার বিস্তার বাড়ছে। ফলে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারা বাসাবাড়ি, নির্মাণাধীন ভবন এবং আশপাশের এলাকায় জমে থাকা পরিষ্কার পানি দ্রুত অপসারণের পরামর্শ দিয়েছেন।
ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক