নতুন কর ও ব্যয়বৃদ্ধিতে চাপে আবাসন খাত, ৫০ লাখ বেকার হওয়ার আশঙ্কা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

নতুন কর ও ব্যয়বৃদ্ধিতে চাপে আবাসন খাত, ৫০ লাখ বেকার হওয়ার আশঙ্কা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 24, 2026 ইং
নতুন কর ও ব্যয়বৃদ্ধিতে চাপে আবাসন খাত, ৫০ লাখ বেকার হওয়ার আশঙ্কা ছবির ক্যাপশন:

দেশের আবাসন খাত বর্তমানে এক জটিল ও অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নতুন কর কাঠামো, নির্মাণ ব্যয় বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি বিক্রিমন্দার কারণে খাতটির উদ্যোক্তারা বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছেন। খাত সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় কয়েকটি বড় আবাসন প্রকল্প নিয়ে কাজ করলেও ঐশী প্রপার্টিজ এখন পর্যন্ত কোনো অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. আইয়ূব আলী জানিয়েছেন, গত কয়েক মাস ধরে বাজারে চরম স্থবিরতা বিরাজ করছে। সাধারণ সময়ে যেখানে প্রতি মাসে কয়েকটি ফ্ল্যাট বিক্রি হওয়ার কথা, সেখানে এখন বিক্রি প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে।

অন্যদিকে আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে বাজারে মন্দা চলছে। গত দুই বছরে বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং নতুন করনীতি এই সংকটকে আরও গভীর করেছে।

প্রস্তাবিত ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে নির্মাণসামগ্রীর ওপর ভ্যাট ও করহার বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিশেষ করে বিলেট ও রড উৎপাদনে ভ্যাট বাড়ানোর কারণে নির্মাণ ব্যয় প্রতি টনে কয়েক হাজার টাকা বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছে ইস্পাত খাতের সংগঠন বিএসএমএ। এতে করে সামগ্রিক নির্মাণ খরচ আরও বেড়ে যাবে।

এছাড়া নতুন কর কাঠামো অনুযায়ী জমির মালিকদের কাছ থেকে পাওয়া ফ্ল্যাট বা অন্যান্য আর্থিক সুবিধার ওপর ১৫ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স আরোপ করা হয়েছে। আগে শুধু সাইনিং মানির ওপর কর ছিল, এখন সেটি আরও বিস্তৃত হওয়ায় ডেভেলপাররা মনে করছেন ফ্ল্যাটের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

রিহ্যাবসহ বিভিন্ন আবাসন ব্যবসায়ী সংগঠনের মতে, এসব কর ও ব্যয়বৃদ্ধির কারণে প্রতি বর্গফুটে ফ্ল্যাটের দাম প্রায় দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। এতে মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য আবাসন ক্রয় আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নির্মাণ খাতে ব্যবহৃত রড, সিমেন্ট ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি ইতোমধ্যেই প্রকল্প ব্যয় অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন নতুন কর যুক্ত হওয়ায় পুরো খাতের উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে।

শীর্ষ আবাসন কোম্পানিগুলোও বিক্রির পতনের কথা স্বীকার করেছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের বিক্রি প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। একই সঙ্গে নতুন বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় ভবিষ্যৎ প্রকল্প নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

উদ্যোক্তাদের মতে, যদি দ্রুত নীতিগত সমন্বয় না আনা হয়, তাহলে আবাসন খাতে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। এর প্রভাব শুধু ডেভেলপারদের ওপর নয়, বরং নির্মাণ শ্রমিক, ইস্পাত শিল্প, পরিবহন ও সংশ্লিষ্ট হাজারো খাতেও পড়বে।

সব মিলিয়ে আবাসন খাত এখন এক কঠিন সময় পার করছে। কর বৃদ্ধি ও ব্যয় বৃদ্ধির চাপ সামলাতে না পারলে ভবিষ্যতে ফ্ল্যাটের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে এবং বাজারে দীর্ঘমেয়াদি মন্দা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াত ছাড়লেন ফকিরহাটের শেখ তারেক

দুধ দিয়ে গোসল করে জামায়াত ছাড়লেন ফকিরহাটের শেখ তারেক