পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে হাজিদের প্রত্যাবর্তন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। হজ বুলেটিনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট ১৭০টি ফিরতি ফ্লাইটে ৬৪ হাজার ১৬৩ জন বাংলাদেশি হাজি দেশে ফিরেছেন। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারী ৪ হাজার ৩১৯ জন এবং বেসরকারি ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়া ৫৯ হাজার ৮৪৪ জন হাজি রয়েছেন।
বুধবার প্রকাশিত হজ বুলেটিনে জানানো হয়, দেশে ফেরা হাজিদের পরিবহনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, সৌদিয়া এয়ারলাইনস এবং ফ্লাইনাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৮৯টি ফ্লাইট পরিচালনা করে ২৮ হাজার ৮৪৫ জন হাজিকে দেশে ফিরিয়েছে। সৌদিয়া এয়ারলাইনসের ৫৯টি ফ্লাইটে ফিরেছেন ২২ হাজার ৪৫৯ জন এবং ফ্লাইনাসের ২২টি ফ্লাইটে দেশে এসেছেন ৮ হাজার ৬৭২ জন হাজি। এছাড়া অন্যান্য এয়ারলাইনসের মাধ্যমে আরও ৪ হাজার ১৮৭ জন দেশে ফিরেছেন।
হজ মৌসুমে এবার মোট ৫৪ জন বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করেছেন। এর মধ্যে মক্কায় ৩৭ জন, মদিনায় ১৬ জন এবং জেদ্দায় একজন মারা গেছেন। তবে পবিত্র মিনা ও মুজদালিফায় কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি, যা স্বস্তিদায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে বাংলাদেশ হজ মিশন। হজ বুলেটিন অনুযায়ী, ৪১৫ জন বাংলাদেশি হাজি সৌদি আরবের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন এবং ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। পাশাপাশি সৌদি মেডিক্যাল সেন্টারগুলো ৬৬ হাজার ৮৮০ জন হাজিকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছে। এছাড়া মক্কা ও মদিনার আইটি হেল্প ডেস্ক ২৮ হাজার ৩২৫ জন হাজিকে তথ্য ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করেছে।
চলতি বছরের হজ পরিবহন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ১৮ এপ্রিল প্রথম বহির্গামী ফ্লাইটের মাধ্যমে। ২১ মে প্রাক-হজ ফ্লাইট শেষ হয় এবং ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হয়। হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়েছে, যা আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত চলবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অবশিষ্ট হাজিদেরও পর্যায়ক্রমে নির্ধারিত ফ্লাইটে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে।
কসমিক ডেস্ক