কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামজুড়ে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সম্ভাব্য নাশকতা, সহিংসতা কিংবা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির আশঙ্কা থেকে নগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও মাঠে অবস্থান নিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় ২২ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত চট্টগ্রামসহ দেশের ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনা কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে, যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে।
সোমবার সকাল থেকেই চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) জানায়, নগরের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নাশকতা ঠেকাতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তবে দুপুর পর্যন্ত নগরের কোথাও নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো ঝটিকা মিছিল বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সার্বিকভাবে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও নিরাপত্তা বাহিনী কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে নারাজ।
সম্ভাব্য নৈরাজ্য ঠেকাতে চট্টগ্রামের ৪১টি ওয়ার্ডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা অবস্থান নিয়েছে। তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে মাঠে রয়েছে বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবিরসহ আরও কয়েকটি সংগঠনের নেতাকর্মীদেরও বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে।
নগরের টাইগারপাস, জিইসি মোড়, দুই নম্বর গেট, পলিটেকনিক, বায়েজিদ, বহদ্দারহাট ও আগ্রাবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে। শুধু প্রধান সড়ক নয়, অনেক জায়গায় অলিগলিতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবাই প্রস্তুত রয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন, দলের কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি না থাকলেও নেতাকর্মীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছেন।
অন্যদিকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের দাবি, নিষিদ্ধ সংগঠনের নামে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন।
গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সদরদপ্তর আগেই সতর্কবার্তা জারি করেছিল। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্ভাব্য অপতৎপরতার তথ্য পাওয়ার পরই বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকা ও দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ, বিজিবি মোতায়েনের পাশাপাশি বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
দিনভর টহল, নজরদারি এবং সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে চট্টগ্রামের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা এখনো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কসমিক ডেস্ক