৫০-১৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির স্বপ্ন দেখছেন বাণিজ্যমন্ত্রী The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

৫০-১৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির স্বপ্ন দেখছেন বাণিজ্যমন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 23, 2026 ইং
৫০-১৫০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির স্বপ্ন দেখছেন বাণিজ্যমন্ত্রী ছবির ক্যাপশন:

বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের কথা জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে দেশের বর্তমান ৫০ থেকে ৫৫ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আয় ভবিষ্যতে ১৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব। মূলত পাঁচ থেকে সাতটি সম্ভাবনাময় খাতকে কেন্দ্র করে এই লক্ষ্য অর্জনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বেসরকারি খাতগুলোর প্রতিযোগিতা সক্ষমতা মূল্যায়ন গবেষণা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কর্মশালায় গবেষণার ভিত্তিতে একটি বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) উপস্থাপন করা হয় এবং অংশীজনদের মতামত গ্রহণ করা হয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণের সব শর্ত পূরণ করেছে। এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো উত্তরণ-পরবর্তী বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা এবং রপ্তানি বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করা। তিনি মনে করেন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে দ্রুত অভিযোজন ছাড়া এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়।

তিনি বিশেষভাবে চামড়া, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং পাটভিত্তিক শিল্পকে রপ্তানি বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, এই খাতগুলোতে ইতোমধ্যে কিছু অবকাঠামো তৈরি হয়েছে, যেগুলোকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র গড়ে তোলা প্রয়োজন। এসব কেন্দ্র আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান দ্বারা পরিচালিত হলে দেশের শিল্প খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও বাড়বে।

পাট খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কাঁচা পাট রপ্তানির পরিবর্তে মূল্য সংযোজিত পণ্য ও জুট ফ্যাব্রিক উৎপাদনে গুরুত্ব দিলে রপ্তানি আয় বহুগুণ বৃদ্ধি করা সম্ভব। এজন্য গবেষণা, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমের কথা তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, সরকার, বেসরকারি খাত এবং একাডেমিয়ার মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলা জরুরি। উন্নত দেশগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে ফলাফল মূল্যায়নের ব্যবস্থা রাখতে হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

কর্মশালায় বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান জানান, এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার একটি সমন্বিত প্রকল্প নেওয়ার উদ্যোগ চলছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রপ্তানি খাত পুনর্গঠন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ব্যবসা সহজীকরণ, ডিজিটালাইজেশন এবং নীতিগত সহায়তা বাড়ানো হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কার্যক্রম আরও সমন্বিত করা হবে, যাতে উদ্যোক্তারা দ্রুত সেবা পান।

সব মিলিয়ে, সরকার রপ্তানি খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশল বাস্তবায়নের দিকে এগোচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক রপ্তানি বাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ এ হাঁসের জয়, রুমিন ফারহানা বেসরকারিভাবে নির

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ এ হাঁসের জয়, রুমিন ফারহানা বেসরকারিভাবে নির