গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যান করেছে জনগণ: সেতুমন্ত্রী The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যান করেছে জনগণ: সেতুমন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 23, 2026 ইং
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যান করেছে জনগণ: সেতুমন্ত্রী ছবির ক্যাপশন:

সড়ক পরিবহন, সেতু, নৌপরিবহন ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ আওয়ামী লীগকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং দলটিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে। তিনি দাবি করেন, জনগণের চাওয়ার প্রতিফলন হিসেবেই দলটি নিষিদ্ধ হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার চর গলগলিয়া এলাকায় ধলেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত রেলসেতুর ঢাকা প্রান্তের ভায়াডাক্টের নিচে বাংলাদেশ রেলওয়ের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, একটি নিষিদ্ধ দলের তৎপরতা এখনো দৃশ্যমান হওয়া জাতির জন্য দুঃখজনক। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, নিষিদ্ধ কোনো দল নিয়ে মন্তব্য না করাই শ্রেয়।

তিনি আরও বলেন, একটি রাজনৈতিক দল যখন জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও স্বার্থের বিপরীতে অবস্থান নেয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই তারা জনগণের সমর্থন হারায়। আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রেও সেটিই ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার দাবি, দলটি আজ জনগণের কাছে পরিত্যক্ত, বর্জিত এবং শেষ পর্যন্ত নিষিদ্ধ।

মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের বৈধতা জনগণের কাছ থেকেই আসে। জনগণ যখন কোনো দলকে প্রত্যাখ্যান করে, তখন সেই দলের রাজনৈতিক অস্তিত্ব প্রশ্নের মুখে পড়ে। তার মতে, আওয়ামী লীগ এখন সেই অবস্থায় রয়েছে, যেখানে জনগণ এবং আইন—দুই দিক থেকেই তারা সমর্থন হারিয়েছে।

গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণ তাদের স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে। এর ফলেই আওয়ামী লীগকে দেশ ছাড়তে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তার মতে, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

তবে তিনি এও উল্লেখ করেন যে, একটি নিষিদ্ধ দলের তৎপরতা এখনো মাঝে মাঝে চোখে পড়া জাতির জন্য ইতিবাচক নয়। তিনি মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ বিষয়ে আরও কঠোর হতে হবে।

এদিকে একই অনুষ্ঠানে সেতুমন্ত্রী দেশের জ্বালানি খাত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার আওতাধীন অব্যবহৃত জমি চিহ্নিত করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার করা হবে।

তিনি বলেন, বিশেষ করে তিন একরের বেশি আয়তনের জমিগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এসব জমিতে সোলার প্যানেল স্থাপন করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তার হিসাব অনুযায়ী, তিন একর জমিতে প্রায় এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।

এই বিদ্যুৎ স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবহার করার পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডেও সরবরাহ করা হবে বলে জানান তিনি। এর মাধ্যমে দেশের জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী এবং পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সব মিলিয়ে, সেতুমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ জ্বালানি পরিকল্পনার একটি চিত্র উঠে এসেছে। তার মন্তব্য ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
দিল্লিতে মোদির সঙ্গে থালাপতি বিজয়ের বৈঠক, তামিলনাড়ুর তিন গুর

দিল্লিতে মোদির সঙ্গে থালাপতি বিজয়ের বৈঠক, তামিলনাড়ুর তিন গুর