টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর সেঁজুতি নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদ এলাকার একটি পুকুর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মৃত সেঁজুতি সখীপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মন্দিরপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফালু চন্দ্র মালুর মেয়ে। সে স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২০ জুন বিকেলের পর থেকে শিশুটির কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
নিখোঁজ হওয়ার পরপরই পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনের বাড়ি, আশপাশের এলাকা এবং সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু দীর্ঘ অনুসন্ধানের পরও তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দেয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নিখোঁজের ঘটনায় একই রাতে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল। এরই মধ্যে শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত ছিল। তবে রবিবার রাতে পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয় বলে দাবি পরিবারের।
স্বজনদের অভিযোগ, একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে শিশুটিকে জীবিত ফিরিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এ ঘটনার পর পরিবার আরও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। তবে অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিশুটির মা শোভা চন্দ্র কান্নাজড়িত কণ্ঠে মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উপজেলা পরিষদের পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, ঘটনাটি হত্যা, দুর্ঘটনা কিংবা অন্য কোনো কারণে ঘটেছে কি না, সে বিষয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে উত্থাপিত মুক্তিপণ দাবির অভিযোগসহ ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের পাশাপাশি শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন।
কসমিক ডেস্ক