মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলায় নিখোঁজের প্রায় ছয় দিন পর এক স্কুলছাত্রীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলার চন্দননগর এলাকার একটি কাঠ বাগানসংলগ্ন স্থান থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।
নিহত কিশোরীর বয়স ১৪ বছর। তিনি উপজেলার শায়েস্তা ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং স্থানীয় সাহরাইল উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এরপর পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালিয়েও তার কোনো সন্ধান পাননি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার দিন বিদ্যালয়ে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছিল। ওই ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পরবর্তীতে ওই দিনই কিশোরী বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
পরিবারের সদস্যরা প্রথমে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের কাছে খোঁজ নেন। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কোনো তথ্য না পাওয়ায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপর পুলিশ নিখোঁজের বিষয়টি তদন্ত করতে শুরু করে।
রবিবার বিকেলে চন্দননগর এলাকার একটি কবরস্থানের কাছে ঝোঁপের ভেতর থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা সেখানে যান। পরে তারা একটি মরদেহ দেখতে পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত মরদেহটি অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল। প্রাথমিকভাবে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ঘটনার পরপরই তদন্ত জোরদার করেছে পুলিশ। বিভিন্ন আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারেন এমন ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দায়ী করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সিঙ্গাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। রহস্য উদ্ঘাটনে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার গভীর শোকাহত। স্থানীয় বাসিন্দারাও দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক