নগরে বিদ্যুৎ ঘাটতি ২৫%, গ্রামে আরও তীব্র লোডশেডিং The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

নগরে বিদ্যুৎ ঘাটতি ২৫%, গ্রামে আরও তীব্র লোডশেডিং

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 28, 2026 ইং
নগরে বিদ্যুৎ ঘাটতি ২৫%, গ্রামে আরও তীব্র লোডশেডিং ছবির ক্যাপশন:

তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ চাহিদাও বেড়ে যায়—এটি সাধারণ একটি চিত্র। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ময়মনসিংহে পরিস্থিতি আরও খারাপ আকার ধারণ করেছে। নগর এলাকায় যেমন লোডশেডিং বেড়েছে, তেমনি গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

ময়মনসিংহ নগরবাসীর অভিযোগ, দিনে-রাতে কিছুক্ষণ পরপরই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিং তাদের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। অনেককে বাড়ির বাইরে খোলা জায়গায় সময় কাটাতে দেখা যাচ্ছে, কারণ ঘরের ভেতরে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ময়মনসিংহে দুটি কেন্দ্রের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জুন থেকে নগরে চাহিদার তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বিদ্যুৎ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কখনো কখনো এই ঘাটতি আরও বেড়ে যাচ্ছে, ফলে বাধ্য হয়ে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

গত শুক্রবার সন্ধ্যার পর নগরের নওমহল ও আর কে মিশন রোড এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

আর কে মিশন রোড এলাকার বাসিন্দা কামরুল হাসান বলেন, “সাপ্তাহিক ছুটির দিনে সাধারণত কিছুটা লোডশেডিং হয়, কিন্তু এখন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এই গরমে এমন পরিস্থিতি খুবই কষ্টকর।”

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ বিতরণ ও বিক্রয় কেন্দ্র উত্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউল ইসলাম জানান, শুক্রবার দুপুরে চাহিদা ছিল ৪০ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ ছিল মাত্র ৩০ মেগাওয়াট। এই ১০ মেগাওয়াট ঘাটতির কারণে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হয়েছে।

অন্যদিকে দক্ষিণ অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত রায় জানান, শনিবার সকালে চাহিদা ছিল ৪৮ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ ছিল মাত্র ৩০ থেকে ৩২ মেগাওয়াট। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

এই সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে গাজীপুরের শ্রীপুর গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। ময়মনসিংহ জেলায় তিনটি গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়, কিন্তু একটি গ্রিড বন্ধ থাকায় সরবরাহে বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

শুধু শহরেই নয়, গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। অনেক এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টারও কম সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে কৃষি, গবাদি পশু পালন এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মাজহারুল ইসলাম বলেন, “দিনে-রাতে অর্ধেক সময়ও বিদ্যুৎ থাকে না। এতে মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশুও কষ্ট পাচ্ছে।”

ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর ডিজিএম (কারিগরি) আবু রায়হান জানান, জেলার সাতটি উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৭৫ মেগাওয়াট, কিন্তু সেখানে প্রায় ৪৫ শতাংশ ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হচ্ছে, ফলে লোডশেডিংয়ের মাত্রাও ওঠানামা করছে।

এ ছাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ ও ২ এর আওতাধীন অন্যান্য উপজেলাগুলোতেও ব্যাপক লোডশেডিং চলছে, যার ফলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

সব মিলিয়ে, ময়মনসিংহে বিদ্যুৎ সংকট এখন একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ভরতনাট্যম’ নাচ নিয়ে ট্রোলের মুখে অনন্যা পান্ডে

ভরতনাট্যম’ নাচ নিয়ে ট্রোলের মুখে অনন্যা পান্ডে