
আগামী আগস্ট মাসকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দেশজুড়ে বড় ধরনের শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। এজন্য তারা সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠছে এবং বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে।
তথ্য অনুযায়ী, নিষিদ্ধ থাকার পরও ছাত্রলীগ বিভিন্ন জেলা, উপজেলা এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নতুন কমিটি গঠন করেছে। সিরাজগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, শেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা কলেজসহ প্রায় দুই ডজন নতুন কমিটি গঠনের খবর পাওয়া গেছে। এই সাংগঠনিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগের কিছু মধ্যম সারির নেতা আত্মগোপন থেকে প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছেন। বিদেশে অবস্থানরত কিছু নেতাও দেশে ফিরে এলেও তারা বর্তমানে এলাকায় তুলনামূলক নীরব অবস্থানেই রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নীরবতা সাময়িক এবং সংগঠনটি পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিত্ব ড. মুহাম্মদ ইউনূস-কে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক ও সমালোচনা আরও বাড়তে পারে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, ক্ষমতার পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক পক্ষগুলো নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে বিভিন্ন ইস্যু ব্যবহার করতে পারে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম মন্তব্য করেন, ড. ইউনূস আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব হলেও কোনো ধরনের ব্যক্তিগত আক্রমণ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে পারে। তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ থাকলেও যুক্তিনির্ভর সমালোচনার ওপর গুরুত্ব দেন।
এছাড়া বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-এর সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কৌশলগত পুনর্গঠনের চেষ্টা স্বাভাবিক বিষয়। তবে সব কর্মকাণ্ডই আইনগত কাঠামোর মধ্যে হওয়া উচিত এবং কোনো ধরনের হঠকারিতা গ্রহণযোগ্য হবে না।
সব মিলিয়ে আগস্ট ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ধরনের অস্থিরতা ও প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিলছে, যা আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে নিয়ে যেতে পারে।