
দেশে অনলাইন ও অফলাইন জুয়া, পাবলিক পরীক্ষায় অনিয়ম এবং মাদকসংক্রান্ত অপরাধ দমনে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আইনের খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার দশম বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় তাদের প্রস্তাবিত আইনের খসড়া উপস্থাপন করলে পর্যালোচনা শেষে সেগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়।
নতুন ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর লক্ষ্য হলো প্রযুক্তিনির্ভর জুয়ার বিস্তার রোধ করা। খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, সময়ের সঙ্গে অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমেই জুয়ার কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পরিচালিত জুয়া, বাজি এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আধুনিক ও কার্যকর আইনি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর খসড়াও চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত এই সংশোধনের মাধ্যমে পাবলিক পরীক্ষায় নকল, প্রশ্নফাঁস, জাল সনদ তৈরি এবং অন্যান্য অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নতুন বিধানে পরীক্ষার ফলাফল বা মেধাতালিকায় হ্যাকিং কিংবা অবৈধভাবে পরিবর্তন করাকে ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ হিসেবে অপরাধের আওতায় আনা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশোধনীতে মাদক অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি সাইবার স্পেসে সংঘটিত মাদকসংক্রান্ত অপরাধ দমন, সীমান্ত এলাকায় সমন্বিত অভিযান পরিচালনা এবং মাদক শনাক্তে বিশেষ ডগ স্কোয়াড গঠনের উদ্যোগও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সরকারের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিস্তার রোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে এসব নতুন আইনি ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অনুমোদিত খসড়াগুলো এখন আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের ভেটিং শেষে পরবর্তী ধাপে পাঠানো হবে।