
ময়মনসিংহের গৌরীপুর, ঈশ্বরগঞ্জ ও নান্দাইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে কয়েকজন ব্যক্তিকে মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবী হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর, মারধর এবং এলাকা ছাড়তে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে বিচ্ছিন্নভাবে এসব ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার কারণে সামাজিক সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছিল। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তির বিস্তার নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন এলাকাবাসী। এই পরিস্থিতিতে কিছু এলাকায় ক্ষুব্ধ জনগণ নিজেরাই পদক্ষেপ নিতে শুরু করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার নান্দাইল উপজেলার সিংরুইল ইউনিয়নের উদং মধুপুর এলাকায় এমন একটি ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা চলছিল। একাধিকবার বাধা দেওয়ার পরও তা বন্ধ না হওয়ায় কিছু যুবক অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর চালায় এবং পরিবারের সদস্যদের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেন, অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার সামাজিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। তাদের মতে, আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পরও অনেক ক্ষেত্রে অভিযুক্তরা পুনরায় একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে।
অন্যদিকে বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের আরও কয়েকটি ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। কোথাও বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে, কোথাও আসবাবপত্র নষ্ট করা হয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সালিস বৈঠকের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব ঘটনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও তাদের অধিকাংশকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সোপর্দ করা হয়নি। ফলে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রশ্নও সামনে এসেছে। মানবাধিকার ও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো অভিযোগ থাকলে সেটি তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়াই আইনসম্মত পথ।
ঘটনার পর অনেক ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় পাওয়া যায়নি। কয়েকটি বাড়ি তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা গেছে। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাদের সরাসরি বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে স্বজনদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও তার পরিবারের অন্য সদস্যরাও এর প্রভাবের শিকার হচ্ছেন।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, এসব ঘটনার বিষয়ে তাদের কাছে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আসেনি। তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, কেউ যাতে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে এবং কোনো ধরনের সহিংসতা বা ভাঙচুরের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় তৎপরতা বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে মাদকসংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে তা আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য জনগণকে উৎসাহিত করার কথাও বলা হয়েছে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটি আইন ও বিচারব্যবস্থার কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় নিরপরাধ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক অস্থিরতাও তৈরি হতে পারে।