
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় আন্তর্জাতিক সংস্থা UNHCR-এর অর্থায়নে পরিচালিত একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, নথিপত্র, আসবাবপত্র এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম পুড়ে গিয়ে প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১২ জুন) দুপুরে উখিয়ার মধুরছড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৪-এর ব্লক বি/৬ সংলগ্ন এলাকায়। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের পরপরই ঘটনাস্থলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু হয়।
অভিযোগ উঠেছে, একদল অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্ত পরিকল্পিতভাবে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আগুন লাগিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। আগুন দ্রুত আশপাশের অংশে ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। পরে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস, রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক, সেনাবাহিনীর টহল দল এবং এপিবিএন সদস্যরা সম্মিলিতভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
এ বিষয়ে উখিয়া ১৪ এপিবিএনের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) সিরাজ আমিন নিশ্চিত করে জানান, আগুনে ইউএনএইচসিআর-এর অর্থায়নে এবং একটি এনজিও সংস্থা সিএনআরএস পরিচালিত স্কিলস ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং সেন্টারটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে অফিস কক্ষ, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, আসবাবপত্র এবং চিকিৎসা কার্যক্রমে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।
ঘটনার পরপরই উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তাদের সঙ্গে যোগ দেন স্থানীয় রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক দল, সেনাবাহিনীর টহল সদস্য এবং এপিবিএনের সদস্যরা। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১২ লাখ টাকা হিসেবে নির্ধারণ করা হলেও, তদন্ত শেষে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে। এটি দুর্ঘটনাজনিত নাকি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে—সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। তবে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় এর আগে বিভিন্ন সময় নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত ঝুঁকির ঘটনা ঘটলেও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভেতরে এমন অগ্নিকাণ্ড নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংস্থার কার্যক্রমে এই ধরনের ঘটনা বড় বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে নজরদারি বাড়ানোর কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।