
খুলনায় আবারও ভয়াবহ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। জেলার দক্ষিণ লবণচরা এলাকায় গাজী রফিক (৪৫), যিনি স্থানীয়ভাবে ‘ঢাকাইয়া রফিক’ নামে পরিচিত, দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন। তিনি বটিয়াঘাটা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
শুক্রবার (১২ জুন) সকাল ১১টার দিকে লবণচরার দশগেট এলাকায় নিজ বাড়ির কাছেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই হামলায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
নিহত গাজী রফিক দক্ষিণ লবণচরার মাথাভাঙ্গা এলাকার রতন গাজীর ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ঘটনার সময় তিনি নিজ বাড়ির কাছেই অবস্থান করছিলেন।
রফিকের স্ত্রী জানান, সকালে তাদের বড় ছেলে রাগ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। তাকে খুঁজতে গিয়ে রফিক বাড়ির পেছনের একটি ফাঁকা জায়গায় বসে ছিলেন। ঠিক সেই সময় অজ্ঞাত পরিচয়ের কয়েকজন দুর্বৃত্ত সেখানে আসে এবং তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিটি তার তলপেটে লাগে।
পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হঠাৎ এই হত্যাকাণ্ডে পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত রফিকের স্ত্রী আরও জানান, তার স্বামী স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে তারা কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না।
ঘটনার খবর পেয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। কেএমপির সহকারী কমিশনার আব্দুর রাজ্জাক জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পুলিশ ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করছে।
তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত তা শনাক্তে তদন্ত চলছে। তবে এখনই বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব নয়।
এদিকে, এ ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে এই হত্যাকাণ্ড কিনা তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। তবে পুলিশ এখনো কোনো নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করেনি।
খুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক সহিংস ঘটনা ঘটায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় ও ব্যক্তিগত বিরোধ—দুই দিকই তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী দ্রুত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে এই হত্যাকাণ্ড খুলনায় নতুন করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং এলাকাজুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে।