
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ চলাকালেই আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ার নিয়ে বড় এক ইঙ্গিত দিয়েছেন বেলজিয়ামের তারকা গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া। রেয়াল মাদ্রিদের এই অভিজ্ঞ ফুটবলার জানিয়েছেন, চলমান বিশ্বকাপ শেষে জাতীয় দলের হয়ে তার দীর্ঘ পথচলার ইতি ঘটতে পারে। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে তিনি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগও খোলা রাখছেন।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে আগামী সোমবার মিশরের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে বেলজিয়াম। ‘জি’ গ্রুপে তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ ইরান ও নিউ জিল্যান্ড। এই গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টে মাঠে নামার আগেই নিজের আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুলেছেন কোর্তোয়া।
২০১১ সালে বেলজিয়াম জাতীয় দলের জার্সিতে অভিষেক হওয়ার পর থেকে দেশটির অন্যতম নির্ভরযোগ্য ফুটবলার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। এখন পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে ১০৯টি ম্যাচ খেলেছেন এই গোলরক্ষক। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বেলজিয়ামের গোলবার সামলানোর পর এবার বিদায়ের সম্ভাবনার কথা জানালেন তিনি।
কোর্তোয়ার মতে, এই মুহূর্তে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার সময় এখনও আসেনি। তবে বাস্তবতা বিবেচনায় বিশ্বকাপ-পরবর্তী সময়েই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করার সম্ভাবনা বেশি। তিনি আরও কয়েক বছর ক্লাব ফুটবলে খেলে যেতে চান এবং সেই লক্ষ্য পূরণে নিজের শারীরিক সক্ষমতা ধরে রাখা জরুরি বলে মনে করেন।
এবারের বিশ্বকাপ দেখতে তার পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত হয়েছেন। কারণ কোর্তোয়ার ধারণা, এটি জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টও হতে পারে। তবে এখনই বিদায় নিশ্চিত করে দিচ্ছেন না তিনি।
অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষক জানিয়েছেন, যদি বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের পারফরম্যান্স প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হয় এবং দলের ভেতরের পরিবেশ ইতিবাচক থাকে, তাহলে অবসরের সিদ্ধান্ত নতুন করে ভাবতে পারেন। সে ক্ষেত্রে টুর্নামেন্ট শেষে কোচিং স্টাফ, টেকনিক্যাল ডিরেক্টর এবং মেডিকেল টিমের সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি।
কোর্তোয়া আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ছোটখাটো চোট এবং শারীরিক সমস্যার কারণে বিশ্রামের গুরুত্ব তিনি আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করেছেন। জাতীয় দলের ব্যস্ত সূচির কারণে পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, যা তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বড় ভূমিকা রাখছে।
এছাড়া নতুন প্রজন্মের গোলরক্ষকদের জন্য জায়গা ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টিও তার ভাবনায় রয়েছে। সেনে ল্যামার্স এবং মাইক পেন্ডার্সের মতো প্রতিভাবান তরুণদের সুযোগ করে দেওয়াকে ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখছেন তিনি।
এখন ফুটবলপ্রেমীদের নজর বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ যাত্রার দিকে। দলের সাফল্য কি কোর্তোয়ার বিদায়ের সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারবে, নাকি বিশ্বকাপ শেষে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানাবেন তিনি—সেটিই এখন সময়ের অপেক্ষা।