
এক দিনের সরকারি সফরে আগামীকাল শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজারে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দীর্ঘদিন পর তাঁর এই সফরকে ঘিরে জেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, সকালে তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। এর মধ্যে রয়েছে পিএমখালী খাল খনন কর্মসূচি, ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন এবং পেকুয়া উপজেলায় গণআন্দোলনের শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত।
এছাড়া তিনি পেকুয়া পৌরসভা ও নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং চকরিয়া বাসস্টেশনে জনসভায় অংশ নেবেন। দিন শেষে কক্সবাজার শহরে সুধী সমাবেশে যোগ দিয়ে রাতেই ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
সফরকে ঘিরে স্থানীয় জনগণের প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকট ও এর স্থায়ী সমাধানের প্রত্যাশা। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার পর বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়, যাদের বড় অংশ বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘমেয়াদে এই সংকট কক্সবাজারের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভারসাম্যের ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে। বনভূমি উজাড়, শ্রমবাজারে চাপ, মাদক ও মানবপাচারসহ বিভিন্ন সমস্যা বাড়ছে বলে তারা দাবি করছেন।
এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি ও কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য Shahjahan Chowdhury বলেন, রোহিঙ্গা সংকট এখন শুধু মানবিক নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের মতে, এই সফর রোহিঙ্গা সংকট সমাধান ও কক্সবাজারের উন্নয়ন ইস্যুতে নতুন দিকনির্দেশনা আনতে পারে।