
চলতি অর্থবছরে ভারতের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নতুন চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যকে কেন্দ্র করে চলমান অস্থিরতার কারণে দেশটির বাজেট ঘাটতি পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হতে পারে বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, জ্বালানি আমদানিনির্ভর অর্থনীতির ওপর বৈশ্বিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে তেল ও জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে সরকারের ভর্তুকি ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সরকারি পর্যায়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অথচ বছরের শুরুতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় এই ঘাটতিকে ৪ দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরিকল্পনা ছিল।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য তা অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। সরকারকে একদিকে ভর্তুকি ব্যয় বাড়াতে হয়, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত আর্থিক সংস্থান করতে হয়।
ভারতের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ দেশটির জ্বালানি চাহিদার বড় অংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। ফলে বৈশ্বিক বাজারে সামান্য মূল্যবৃদ্ধিও সরকারের ব্যয় কাঠামোয় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাজেট ঘাটতি বৃদ্ধি পেলে সরকারকে অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ, ব্যয় পুনর্বিন্যাস অথবা নতুন রাজস্ব উৎস খোঁজার মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করতে হতে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জ্বালানি খাতে বিকল্প পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তাও সামনে আসতে পারে।
তবে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার গতিপ্রকৃতি আগামী মাসগুলোতে ভারতের বাজেট ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।