
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। রাত প্রায় ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে অনুভূত এ ভূকম্পনে অনেক মানুষ আতঙ্কিত হয়ে বাসাবাড়ি ও ভবন থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পটি দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুভূত হলেও এর কেন্দ্রস্থল বাংলাদেশের বাইরে ছিল। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের আসাম রাজ্যের শিলচর এলাকার নিকটবর্তী অঞ্চল, যা বাংলাদেশের সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত। ফলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় কম্পনের প্রভাব অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে শুরু করেন। অনেকেই জানান, তারা কয়েক সেকেন্ড ধরে ভবন ও আসবাবপত্র কাঁপতে দেখেছেন। বিশেষ করে বহুতল ভবনে অবস্থানকারীরা তুলনামূলক বেশি কম্পন অনুভব করেছেন বলে মন্তব্য করেন।
সিলেট, ময়মনসিংহ এবং রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া দেশের আরও কিছু অঞ্চলের বাসিন্দারাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কম্পন টের পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে ভূমিকম্পের মাত্রা ও প্রভাবের বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে পরে প্রকাশ করা হতে পারে।
প্রাথমিকভাবে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর না পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সম্ভাব্য তথ্য সংগ্রহ করছে বলে জানা গেছে।
ভূমিকম্প একটি প্রাকৃতিক ঘটনা হলেও এর প্রভাব অনেক সময় ভয়াবহ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সবসময় ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত না হয়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সতর্কতা অনুসরণের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত রবিবার রাতেও বাংলাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল। সে সময় দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশজুড়ে অনুভূত হওয়া ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৬। ওই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ভুটান অঞ্চলে। কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থান করায় প্রতিবেশী দেশগুলোর বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘটিত ভূমিকম্পের কম্পন প্রায়ই দেশে অনুভূত হয়। এ কারণে ভবন নির্মাণে ভূমিকম্প সহনশীল নকশা অনুসরণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমানে ভূমিকম্পজনিত কোনো বড় ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের তথ্য পাওয়া না গেলেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নতুন কোনো তথ্য পেলে তা জানানো হবে।