
যশোরের অভয়নগর উপজেলায় এক ব্যবসায়ীর বাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, পূর্বে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল এবং সেই দাবি পূরণ না করায় ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।
বুধবার (১০ জুন) রাত প্রায় ৯টার দিকে উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের চন্দ্রপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবর্ষণের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভয়নগর থানা পুলিশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জামির হোসেন (৫৫) স্থানীয় বাসিন্দা এবং এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগের রাতে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে জামির হোসেনের কাছে মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করেন। পরিবারের দাবি, ওই অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর থেকেই তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
অভিযোগে বলা হয়েছে, বুধবার রাতে কয়েকজন অস্ত্রধারী ব্যক্তি ব্যবসায়ীর বাড়ির সামনে এসে গুলি ছোড়ে। পরে তারা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে আরও গুলির শব্দ সৃষ্টি করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল থেকে দুই রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ উদ্ধারকৃত আলামত সংগ্রহ করে পরবর্তী পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জামির হোসেন এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে পরিবারের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, চাঁদার দাবি পূরণ না করায় ভয়ভীতি প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে এ ধরনের হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এমন ঘটনা জনমনে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া গুলির খোসাগুলো প্রাথমিকভাবে দেশীয় পিস্তলে ব্যবহৃত বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, জড়িতদের শনাক্তকরণ এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।