
গরমের দিনে শরীর ঠাণ্ডা রাখতে শরবতের বিকল্প খুব কমই আছে। একসময় বাঙালির ঘরে অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে রোজকার স্বস্তির পানীয় হিসেবে নানা ধরনের ঘরোয়া শরবতের প্রচলন ছিল। আধুনিক সময়ে কোমল পানীয় ও প্যাকেটজাত জুসের জনপ্রিয়তা বাড়লেও এখনো অনেক পরিবারে স্বাস্থ্যকর ও প্রাকৃতিক শরবতের কদর কমেনি।
উত্তর-পশ্চিম ভারতের গুজরাত ও রাজস্থানে জনপ্রিয় এমনই একটি পানীয় হলো ‘ভারিয়ালি শরবত’। মৌরি দিয়ে তৈরি এই শরবত শুধু শরীর ঠাণ্ডাই রাখে না, বরং হজমে সহায়তা, অরুচি দূর করা এবং শরীর সতেজ রাখতেও কার্যকর বলে মনে করা হয়। অনেকে এটিকে প্রাকৃতিক ডিটক্স পানীয় হিসেবেও পান করেন।
প্রথমে মৌরি ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এরপর মৌরি ও মিছরি সামান্য পানিতে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। চাইলে আগের রাতেও ভিজিয়ে রাখতে পারেন।
ভেজানো মৌরি, মিছরি ও এলাচ একসঙ্গে ব্লেন্ড করে মিহি করে নিন। এরপর পাতলা কাপড় বা ছাঁকনি দিয়ে ছেঁকে মৌরির খোসা আলাদা করে ফেলুন।
এবার ওই ঘন মিশ্রণের সঙ্গে ঠাণ্ডা পানি মিশিয়ে তাতে বিট লবণ, ভাজা জিরার গুঁড়া ও লেবুর রস যোগ করুন। সবশেষে বরফ কুচি দিয়ে পরিবেশন করুন। চাইলে সাজানোর জন্য উপরে পুদিনা পাতা ছড়িয়ে দিতে পারেন।
হজমশক্তি বাড়ায় ও অরুচি দূর করে:
মৌরিতে থাকা প্রাকৃতিক তেল হজমে সহায়তা করে। এটি বদহজম, গ্যাস ও পেট ফাঁপার সমস্যা কমাতে সাহায্য করে এবং মুখের রুচি ফিরিয়ে আনতে কার্যকর।
শরীর ঠাণ্ডা রাখে:
মৌরির স্বাভাবিক শীতল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। প্রচণ্ড গরমে এই শরবত শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে এবং হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
ডিটক্সে সহায়ক:
মৌরিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন দূর করতে সহায়তা করে। এটি লিভারের কার্যকারিতা ভালো রাখতেও সাহায্য করতে পারে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে:
মৌরি বিপাকক্রিয়া বাড়াতে সহায়তা করে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
ত্বক ও চোখের জন্য উপকারী:
অনেকে মনে করেন, নিয়মিত মৌরির শরবত পান করলে ত্বক ভালো থাকে এবং চোখের স্বাস্থ্যেরও উপকার হয়।
সর্দি-কাশিতে আরাম দেয়:
মৌরি কফ কমাতে সহায়তা করতে পারে। ফলে সর্দি-কাশি বা হালকা শ্বাসকষ্টে কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে।
সহজ উপকরণে তৈরি এই শরবত গরমের দিনে স্বাদ, স্বস্তি ও স্বাস্থ্য—তিনটিই একসঙ্গে দিতে পারে।