
দেশের স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান শূন্যপদ পূরণ এবং সেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বড় ধরনের নিয়োগ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যেখানে ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক এবং ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কার্যক্রম শুরু করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেট বক্তৃতায় তিনি স্বাস্থ্য খাতকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার খাত হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জনস্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও জনমুখী করার বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
বাজেট বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক সংকট রয়েছে। এই সংকট কাটাতে দ্রুত ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা, জেলা ও গ্রামীণ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কার্যক্রমও শুরু করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ, প্রায় ৮০ শতাংশ পদে নারী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য হলো প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়ানো এবং মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যসেবায় আরও উন্নতি আনা। বিশেষ করে গ্রামীণ অঞ্চলে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর অভাবে যে সেবাগত ঘাটতি রয়েছে, তা পূরণ করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
বাজেটে আরও জানানো হয়েছে, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি খাতে উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়ানো হবে। নার্সিং বিষয়ে ব্যাচেলর এবং মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যাতে দেশে দক্ষ স্বাস্থ্য পেশাজীবীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
এ ছাড়া, শিক্ষিত বেকারদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে চার মাস মেয়াদি ‘জেনারেল কেয়ারগিভার’ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশে এবং বিদেশে স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাজেটে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মেডিকেল ডিভাইস শিল্পকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে উন্নয়ন করা হবে। এতে করে দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়বে এবং চিকিৎসা ব্যয় কিছুটা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে নিম্ন আয়ের মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে মানসম্মত ওষুধের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। একই সঙ্গে সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বাজেট উপস্থাপনায় অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১.০২ শতাংশ।
তুলনামূলকভাবে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা, যা জিডিপির ০.৫৮ শতাংশ। অর্থাৎ নতুন বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নিয়োগ ও বাজেট বৃদ্ধি বাস্তবায়ন হলে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে, বিশেষ করে গ্রামীণ ও প্রান্তিক পর্যায়ে।