
বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছে ইতালি। বিশেষ করে তৈরি পোশাক, খাদ্যপণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য আমদানিতে দেশটির আগ্রহের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত Antonio Alessandro। রোববার (১০ মে) প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা Humayun Kabir–এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও Italy–এর মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে মতবিনিময় করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। বিশেষ করে বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন ক্ষেত্র নিয়ে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে।
রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক আন্তর্জাতিক বাজারে ইতোমধ্যে সুনাম অর্জন করেছে। একইসঙ্গে দেশের খাদ্যপণ্য ও চামড়াজাত পণ্যের মানও ইতালির বাজারে সম্ভাবনা তৈরি করছে। ফলে এসব পণ্য আমদানিতে ইতালির ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট মহলের আগ্রহ বাড়ছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের শিল্পখাতের আধুনিকায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। ইতালির দূতাবাসের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে ইতালি থেকে আধুনিক প্রযুক্তি ও শিল্প-কারখানায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি বা মেশিনারিজ কেনার আহ্বান জানানো হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে দেশের শিল্প উৎপাদন আরও উন্নত ও প্রযুক্তিনির্ভর হতে পারে। বিশেষ করে উৎপাদন খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।
দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় বাংলাদেশে ইতালির জনপ্রিয় ফুটবল ক্লাবগুলোর সফর ও প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের আমন্ত্রণ জানানো হয়। ক্রীড়ার মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়ানোর মাধ্যমে জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্ব আরও সুদৃঢ় করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
এ ছাড়া নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন ব্যবস্থাপনা সহজতর করতে বাংলাদেশ ও ইতালির চলমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়। উভয় দেশই বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও সহজ করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে দক্ষ জনশক্তি বিনিময় এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়ে সহযোগিতার সম্ভাবনাও গুরুত্ব পায় আলোচনায়।
বৈঠকে উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে বাণিজ্য, সামরিক, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক আরও জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করে। বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যকার সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ দেশ ইতালির এমন আগ্রহ বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি চামড়া ও খাদ্যপণ্যের বাজার সম্প্রসারণ হলে দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি আসতে পারে। একইসঙ্গে প্রযুক্তি ও শিল্পখাতে সহযোগিতা বাড়লে উৎপাদন ব্যবস্থার আধুনিকায়নেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।