
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বাভাবিক প্রসব বা নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে ১৭ নবজাতকের জন্ম হয়েছে, যা হাসপাতালের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুর ১২টা থেকে বুধবার (১০ জুন) দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই ২৪ ঘণ্টায় এই ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে শুধু রাতের সময়েই ১২টি শিশু ভূমিষ্ঠ হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ ও স্বাভাবিক প্রসব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এই ধারাবাহিকতার ফলে প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যেই জেলা ও জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি ও পুরস্কার অর্জন করেছে।
স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে এত বেশি সংখ্যক শিশুর জন্ম হওয়াকে স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালের ওপর মানুষের আস্থা বাড়াতে এই ধরনের সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একজন নবজাতকের মা তার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, শুরুতে নরমাল ডেলিভারি নিয়ে তিনি বেশ আতঙ্কিত ছিলেন। তবে হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের আন্তরিক সহযোগিতা ও সাহসে তিনি কোনো অস্ত্রোপচার ছাড়াই সুস্থভাবে সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম হন। তিনি আরও বলেন, বেসরকারি ক্লিনিকে গেলে অনেক অর্থ ব্যয় হতো, কিন্তু এখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন।
ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তৌহিদুল আলম জানান, মাতৃমৃত্যুর হার কমানো এবং নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, হাসপাতালের গাইনোকোলজি বিশেষজ্ঞ ও দক্ষ মিডওয়াইফরা ২৪ ঘণ্টা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। মায়েদের স্বাভাবিক প্রসবের জন্য উৎসাহিত করাই তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নরমাল ডেলিভারি মাতৃস্বাস্থ্যের জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং ঝুঁকি কম। সরকারি হাসপাতালগুলোতে এ ধরনের সেবার প্রসার ঘটলে একদিকে যেমন চিকিৎসা ব্যয় কমে, অন্যদিকে মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হারও কমে আসে।
ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই অর্জন স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর জন্যও একটি অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।