
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী ‘Freshers Reception 2025-2026’ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৯ এপ্রিল (এফএএসএস), ৩০ এপ্রিল (এফএসটি) এবং ১০ মে (এফবিএস ও এফএসএসএস) তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা অডিটরিয়ামে এ আয়োজন সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ ও অনুপ্রেরণামূলক আয়োজন, যেখানে নতুন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। শুরুতেই নবীন শিক্ষার্থীদের বিইউপির একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা প্রদান করা হয়, যাতে তারা নতুন পরিবেশে সহজে মানিয়ে নিতে পারে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিইউপির উপাচার্য মেজর জেনারেল মোঃ মাহবুব-উল আলম, বিএসপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, এমফিল, পিএইচডি। তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, একজন সফল মানুষ গড়ে ওঠার জন্য শুধু পড়াশোনাই যথেষ্ট নয়, বরং শৃঙ্খলা, সততা, নৈতিকতা, সহমর্মিতা, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং আত্মবিশ্বাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গুণ। তিনি বলেন, এই গুণগুলো অর্জন করতে পারলেই একজন শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে সফল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বিইউপি শুধু একাডেমিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে কাজ করছে। পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাস্তবতায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে বিশ্ববিদ্যালয়টি ফলাফলভিত্তিক ও প্র্যাকটিক্যাল শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
উপাচার্য আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নবীন শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বৃদ্ধি করবে এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য ও নিষ্ঠার মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং নবীন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, যেখানে নতুন শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার অনুপ্রেরণা লাভ করে।
বিইউপির এই আয়োজন নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য একটি স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, যা তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের পথচলায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।