
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় চোরাই অটোরিকশা উদ্ধারের ঘটনায় আন্তঃজেলা চোরচক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৯ মে) রাত থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয়। অভিযানে মোট তিনটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের কুমচর গ্রামের আবুল কালাম ওরফে রাসেল (৩৫), হাতিয়ার সোনাদিয়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ উদ্দিন আজাদ (২৮), হাতিয়া পৌরসভার মেহেদী হাসান (২৯), সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের আশরাফুল (২৫) এবং সুবর্ণচর উপজেলার চর ওয়াপদা এলাকার নুর হোসেন (৫৭)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলার ইসলামীয়া রোডের কৃষ্ণরামপুর এলাকায় একটি গ্যারেজে অভিযান চালানো হয়। সেখানে অবস্থানরত তিনজনকে আটক করা হয়। তারা হলেন মেহেদী হাসান, আশরাফুল এবং নুর হোসেন। তাদের কাছ থেকে ওই সময় দুটি চোরাই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ পরে রবিবার ভোরে পশ্চিম বদরীপুর এলাকায় আরেকটি অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযানে আবুল কালাম ও মোহাম্মদ উদ্দিন আজাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আরও একটি চোরাই অটোরিকশা উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়া তিনটি অটোরিকশার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা। এসব যানবাহন বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরি করে নোয়াখালীতে এনে বিক্রি বা গোপনে ব্যবহার করা হতো।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তাররা আন্তঃজেলা চোরচক্রের সক্রিয় সদস্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্মীপুর, হাতিয়া এবং নোয়াখালীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চুরি করে আসছিল।
তিনি আরও জানান, চক্রটি চুরির পর গাড়ির পরিচয় মুছে ফেলে এবং পরে ভিন্ন এলাকায় বিক্রি করত বা কম দামে হাতবদল করত। এভাবে তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংগঠিত অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক চালিয়ে আসছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় সুধারাম মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চুরির ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়ে গিয়েছিল। পুলিশি এই অভিযানকে তারা স্বস্তির হিসেবে দেখছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও বলছে, এ ধরনের চক্র দমনে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।