
নওগাঁ জেলায় আগামী ২২ মে থেকে আম সংগ্রহ শুরু হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। ধাপে ধাপে জাতভেদে বিভিন্ন ধরনের আম বাজারে আসবে। অপরিপক্ব আম সংগ্রহ ও বাজারজাত ঠেকাতে এবারও নির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে আমের গুণগত মান বজায় থাকে এবং ভোক্তারা ভালো মানের আম পান।
রবিবার (১০ মে) বিকেল ৪টায় নওগাঁ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময়সভায় এই সময়সূচি ঘোষণা করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
সভায় জানানো হয়, ২২ মে থেকে গুটি জাতের আম সংগ্রহ শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য জাতের আম বাজারে আসবে। ৩০ মে থেকে গোপালভোগ, ২ জুন থেকে ক্ষীরসাপাত বা হিমসাগর, ৫ জুন থেকে নাক ফজলি, ১০ জুন থেকে ল্যাংড়া ও হাঁড়িভাঙা, ১৫ জুন থেকে আম্রপালি, ২৫ জুন থেকে ফজলি ও ব্যানানা ম্যাঙ্গো এবং ৫ জুলাই থেকে আশ্বিনা, বারি আম-৪, গৌড়মতি ও কাটিমন আম সংগ্রহ করা যাবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর নওগাঁ জেলায় প্রায় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। এবার মোট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৮৭ হাজার ২৩৫ মেট্রিক টন আম।
এছাড়া জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, শুধু নওগাঁ জেলাতেই এবার প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার আম বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। এটি স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আমের গুণগত মান বজায় রাখা এবং ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্যই এই সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি জানান, বিশেষ কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতি দেখা দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেও আম সংগ্রহ করা যাবে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনোভাবেই অপরিপক্ব আম বাজারজাত করা যাবে না। বেশি লাভের আশায় আগেভাগে আম সংগ্রহ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নওগাঁর আমের সুনাম ধরে রাখতে চাষি ও ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা সময়সূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
নওগাঁর আম দেশের অন্যতম সুস্বাদু ও জনপ্রিয় ফল হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে হিমসাগর, ল্যাংড়া ও আম্রপালি আম দেশজুড়ে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সঠিক সময়ে সংগ্রহ নিশ্চিত হলে আন্তর্জাতিক বাজারেও নওগাঁর আমের সুনাম আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।