
ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুষ্ঠিত কামিল (স্নাতকোত্তর) পরীক্ষা-২০২৪-এর ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। রবিবার (১০ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবু জাফর খান ফল ঘোষণা করেন। এবারের পরীক্ষায় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৮৯.৮২ শতাংশ, যা শিক্ষার্থীদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুই বছর মেয়াদি এই কামিল পরীক্ষায় সারা দেশের বিভিন্ন মাদরাসা থেকে মোট ৪২ হাজার ৩৩৯ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ৩৭ হাজার ৬২২ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। প্রথম বর্ষে পাসের হার ছিল ৮৩.৫১ শতাংশ এবং চূড়ান্ত বর্ষে পাসের হার আরও বেশি, যা ৯৬.১২ শতাংশে পৌঁছায়।
ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম ভাইস-চ্যান্সেলরের কাছে ফলাফল হস্তান্তর করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার, রেজিস্ট্রারসহ অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবু জাফর খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য হলো দ্রুত পরীক্ষা গ্রহণ, নির্ভুল ফল প্রকাশ এবং শিক্ষার্থীদের সনদ যথাসময়ে প্রদান নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে এক বছর মেয়াদি কামিল পরীক্ষা চলছে এবং এর ফলাফলও দ্রুত প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নকলমুক্ত পরীক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, সেশনজট কমাতে এবং শিক্ষার্থীদের সময়মতো ফলাফল দেওয়ার লক্ষ্যে দ্রুত কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এবারের পরীক্ষায় বিভিন্ন মাদরাসা মেধাতালিকায় ভালো ফল করেছে। চূড়ান্ত বর্ষে দারুননাজাত সিদ্দীকিয়া কামিল মাদরাসা, ছারছীনা দারুসুন্নত কামিল মাদরাসা এবং ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদরাসা শীর্ষস্থান অর্জন করে। প্রথম বর্ষে বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল মাদরাসা, সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া ঢাকা এবং জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া কামিল মাদরাসা শীর্ষে অবস্থান করে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ধারাবাহিকভাবে পাসের হার বেশি থাকা মাদরাসা শিক্ষার মান উন্নয়নের একটি ইতিবাচক দিক নির্দেশ করে। তবে আরও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা ও প্রযুক্তি নির্ভর মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করার প্রয়োজন রয়েছে।