
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং আর্থিক সহায়তার আওতায় আনতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে আন্দোলনে অবদান রাখা পরিবার ও যোদ্ধাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্য অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের প্রতিটি পরিবারকে প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা করে সম্মানি ভাতা প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে আহত জুলাই যোদ্ধাদের শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে মাসিক ভাতার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুতর আহত ‘এ’ ক্যাটাগরির যোদ্ধারা প্রতি মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা পাবেন। ‘বি’ ক্যাটাগরির আহত যোদ্ধাদের জন্য মাসিক ১৫ হাজার টাকা এবং ‘সি’ ক্যাটাগরির আহতদের জন্য ১০ হাজার টাকা ভাতার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
শুধু মাসিক ভাতা নয়, গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য কর সুবিধাও বাড়ানো হয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, তাদের করমুক্ত আয়ের সীমা বৃদ্ধি করে ৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে কর্মজীবনে থাকা জুলাই যোদ্ধারা অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা পাবেন।
অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তব্যে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও জনগণের প্রত্যাশাকে ধারণ করে সরকার ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, পুনর্বাসন উদ্যোগ এবং আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের জন্য এই বিশেষ ভাতা কর্মসূচি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী পরিবারগুলোর আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি তাদের অবদানের আনুষ্ঠানিক মূল্যায়নও নিশ্চিত হবে।