
মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে এক মার্কিন কূটনীতিকের রহস্যজনক মৃত্যু আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ঘটনায় একজন থাই নারীকে আটক করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, ইয়াঙ্গুনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে কর্মরত এক কূটনীতিকের মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহত কর্মকর্তার পরিচয়, মৃত্যুর কারণ কিংবা ঘটনার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তির পরিবার ও স্বজনদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান জানিয়ে এ মুহূর্তে অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। ফলে ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ইয়াঙ্গুনের একটি হোটেল থেকে ওই কূটনীতিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হোটেলটি মার্কিন দূতাবাস থেকে প্রায় ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং দীর্ঘমেয়াদি আবাসনের সুবিধা থাকায় বিদেশি কূটনীতিক, ব্যবসায়ী ও আন্তর্জাতিক কর্মীদের কাছে জনপ্রিয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কূটনৈতিক মহলের কয়েকজন সদস্য জানিয়েছেন, মিয়ানমার পুলিশ ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করছে। যদিও দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে আটক হওয়া থাই নারীকে কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদেরও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় থাই কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একজন বিদেশি কূটনীতিকের অস্বাভাবিক মৃত্যু এবং সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ মিয়ানমারে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও কূটনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলতে পারে।
বর্তমানে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য এবং আটক নারীর সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা সম্পর্কে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই এ ঘটনার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।