
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় মাদক ব্যবসায়ীর পক্ষে থানায় গিয়ে তদবির করতে গিয়ে আটক হওয়া বিএনপি ও জামায়াতের পাঁচ নেতা মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পেয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে শনিবার (৯ মে) রাতে, যখন Mirpur Police Station-এর অধীনে মাদকবিরোধী অভিযান চলছিল। অভিযানে নওদা আজমপুর গ্রামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তির নাম রবিউল ইসলাম। তাকে আটটি ইয়াবাসহ হাতেনাতে আটক করে আমলা ক্যাম্প পুলিশ থানায় নিয়ে আসে।
পরে থানায় গিয়ে ওই মাদক ব্যবসায়ীকে ছাড়িয়ে নিতে আসেন স্থানীয় ইউপি মেম্বারসহ বিএনপি ও জামায়াতের পাঁচ নেতা। তারা থানায় উপস্থিত হয়ে ওসির ওপর চাপ সৃষ্টি করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
আটক নেতাদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় ইউপি মেম্বার Enamul Haque, সুজন আলী, আলাউদ্দিন, শফিকুল ইসলাম এবং সাইদুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, তারা থানায় এসে বারবার মাদক ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ তাদের আটক করে হেফাজতে নেয়।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা Shahidul Islam জানান, অভিযানে আটক মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অভিযানের সময় ধরা পড়া ব্যক্তির কাছ থেকে মাদক কেনার তথ্যও পাওয়া গেছে, যার ভিত্তিতে মামলাটি করা হয়।
ওসি আরও জানান, পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আটক পাঁচজনকে সতর্ক করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। তারা ভবিষ্যতে এ ধরনের তদবির না করার শর্তে মুক্তি পান।
পুলিশের ভাষ্যমতে, মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে কেউই ছাড় পাবে না—এমন অবস্থান তারা বজায় রাখছে।
স্থানীয়দের মতে, এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে প্রশাসনিক কঠোরতার উদাহরণ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বিষয়টিকে রাজনৈতিক প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং কোনো ধরনের চাপ বা তদবির বরদাশত করা হবে না।
সব মিলিয়ে, মিরপুরের এই ঘটনা আবারও মাদকবিরোধী অভিযান ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে।