
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় ৯ জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় Jahangir Kabir Nanak-সহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রবিবার (১০ মে) International Crimes Tribunal-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চ অভিযোগ গঠন করে এই আদেশ দেন।
বেঞ্চের অপর সদস্য ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
আদালত মামলার সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৮ জুন দিন ধার্য করেছেন। এদিন থেকেই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে।
ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম, তারেক আবদুল্লাহ, শহিদুল ইসলাম সরদার এবং আবদুস সাত্তার পালোয়ান।
শুনানি শেষে প্রধান কৌঁসুলি Aminul Islam সাংবাদিকদের বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের যে “ওপেন নির্দেশনা” দেওয়া হয়েছিল, তারই অংশ হিসেবে মোহাম্মদপুরে কিশোর ফাইয়াজকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
তিনি আরও জানান, ফাইয়াজ হত্যাসহ ১৮ ও ১৯ জুলাই সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী Sheikh Hasina, তাপসসহ মোট ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর ব্যাপক সহিংসতা চালানো হয়। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর এলাকায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধের পর্যায়ে পড়ে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠন হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আদালত প্রাথমিকভাবে মনে করে যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিচার চালানোর মতো পর্যাপ্ত ভিত্তি রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিচার দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ মামলায় দেশের পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম জড়িত রয়েছে।
এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলোও মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার দিকে নজর রাখছে। তাদের মতে, বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মামলার পরবর্তী ধাপে সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও অন্যান্য বিচারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে।
সব মিলিয়ে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরুর এই আদেশ দেশের রাজনৈতিক ও বিচারিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।