
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র Selina Hayat Ivy-এর বিরুদ্ধে দায়ের করা পাঁচ মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।
রবিবার (১০ মে) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ যে আবেদন করেছিল, সেটিও খারিজ করে দেওয়া হয়।
আদালতে আইভীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন সিনিয়র আইনজীবী মো. মোতাহার হোসেন সাজু। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে শুনানি উপস্থাপন করে।
আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে আপাতত পাঁচ মামলায় সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন বহাল থাকছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
গত বছর ৯ মে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত চুনকা কুটির থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
তার গ্রেপ্তারের ঘটনা সে সময় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার সমর্থকদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
সেলিনা হায়াৎ আইভী দীর্ঘ সময় ধরে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। ২০০৩ সালে তিনি নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন এবং ২০১১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।
পরে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠিত হলে তিনি টানা তিনবার মেয়র নির্বাচিত হন। স্থানীয় সরকার পর্যায়ে দীর্ঘ সময় জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তিনি দেশের অন্যতম পরিচিত নারী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি পান।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আপিল বিভাগের এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মামলার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম চলমান থাকলেও জামিনের বিষয়টি আদালত মামলার প্রেক্ষাপট, অভিযোগের ধরন এবং আইনগত দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইভীর বিরুদ্ধে মামলাগুলো এবং তার জামিন প্রশ্নটি নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। কারণ স্থানীয় রাজনীতিতে তার প্রভাব এখনও উল্লেখযোগ্য।
এদিকে আদালতের আদেশের পর আইভীর সমর্থকদের মধ্যে স্বস্তির পরিবেশ দেখা গেছে। তবে মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে নতুন আইনি পদক্ষেপ আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, পাঁচ মামলায় আপিল বিভাগে সেলিনা হায়াৎ আইভীর জামিন বহাল থাকার সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক ও আইন অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।