
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় মোবাইল ফোন চার্জ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক স্কুলছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত কিশোরীর নাম Atithi Rani Das। তার বয়স ছিল ১৩ বছর।
শনিবার (৯ মে) রাতে উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ভুবনের বাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। রবিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন Md. Nurul Hakim।
নিহত অতিথি রাণী দাস স্থানীয় চরফকিরা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবা গোপাল চন্দ্র জল দাস স্থানীয় বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে বাড়িতে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন চার্জ দিতে গিয়ে বৈদ্যুতিক সকেটে সংযোগ দেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় সে। ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটে যে পরিবারের সদস্যরা প্রথমে কিছুই বুঝতে পারেননি।
পরে তাকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার করেন। স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।
চরফকিরা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান Mizanur Rahman জানান, হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি চলাকালেই কিশোরীটির মৃত্যু হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং ঘটনাটি দুর্ঘটনাজনিত হওয়ায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্কুলের সহপাঠী ও শিক্ষকরাও কিশোরীর অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদ্যুতিক সকেট ও চার্জার ব্যবহারে সামান্য অসাবধানতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে পুরোনো বা ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি থাকে।
তারা পরামর্শ দিয়েছেন, মোবাইল চার্জ দেওয়ার সময় নিরাপদ মাল্টিপ্লাগ ও মানসম্মত চার্জার ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি শিশুদের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্ক নজরদারি প্রয়োজন।
বাংলাদেশে প্রায়ই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটে। সচেতনতার অভাব এবং ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাপনা এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে, নোয়াখালীর এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতার গুরুত্ব সামনে নিয়ে এসেছে।