
বাংলাদেশ–ভারত সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো কার্যক্রমে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্তের একাধিক স্থানে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো বার্তায় বলা হয়েছে, সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে অনুমতি ছাড়া কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, সড়ক মেরামত, সীমান্ত পোস্ট বা স্থাপনা নির্মাণ, সেতু, কালভার্ট এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশ দাবি করেছে, এ ধরনের কার্যক্রম বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও যৌথ নির্দেশিকার পরিপন্থী।
ঢাকার তথ্য অনুযায়ী, মোট ৬৮টি স্থানে অনিয়ম শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৩৯টি স্থানে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা, ৩৩টি সড়ক নির্মাণ বা মেরামত, ২৭টি সীমান্ত পোস্ট বা স্থাপনা নির্মাণ এবং ২০টি সেতু, কালভার্ট ও বাঁধ নির্মাণসংক্রান্ত কার্যক্রম। একই সঙ্গে ১৮টি অন্যান্য অবকাঠামো কার্যক্রমের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী শূন্যরেখা থেকে ১৫০ গজের মধ্যে কোনো সশস্ত্র বাহিনীর উপস্থিতি থাকার কথা নয়। তবে কিছু এলাকায় বেড়া নির্মাণের পর বিএসএফ সদস্যদের অবস্থান দেখা গেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বর্তমানে বিজিবি ও বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠক চলমান রয়েছে। বৈঠকের মধ্যেই বাংলাদেশ এই আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়। আলোচনার মূল বিষয়গুলোর মধ্যে সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা ‘পুশ ইন’ ইস্যুও রয়েছে, যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বাংলাদেশ বলেছে, আগে চিহ্নিত ৬৮টি স্থানের অনিয়ম সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত নতুন ৮৬টি স্থানে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ শুরু করা যাবে না। একই সঙ্গে যৌথ পরিদর্শন ও আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলো সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের নিজস্ব আইন ও প্রক্রিয়া অনুযায়ী অবৈধ বিদেশিদের ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সীমান্তে চলমান এ ধরনের উত্তেজনা দুই দেশের বিদ্যমান কূটনৈতিক কাঠামোর মাধ্যমে সমাধান করা জরুরি। না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।