
সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ এবং অবৈধ মাছ আহরণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের চলমান ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রমে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ অভিযানে এখন পর্যন্ত ৯৬৩ মেট্রিক টনের বেশি মাছ এবং প্রায় ৯২ লাখ মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে।
রবিবার (১০ মে) Ministry of Fisheries and Livestock প্রকাশিত এক অগ্রগতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ১১ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই সময় বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় সব ধরনের মৎস্য নৌযান দ্বারা যেকোনো প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ১৫ এপ্রিল থেকে ৯ মে পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১ হাজার ৬৩৬টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে ২৮টি মোবাইল কোর্ট।
অভিযান চলাকালে ১ হাজার ২০৪টি মাছ অবতরণ কেন্দ্র, ৪ হাজার ৩৪৭টি মাছঘাট, ৮ হাজার ১৩৯টি আড়ত এবং ৭ হাজার ৯৭৯টি বাজার পরিদর্শন করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, এই নজরদারির ফলে অবৈধ মাছ আহরণ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযানগুলোতে মোট ৯৬৩ দশমিক ৪৪২ মেট্রিক টন মাছ এবং ৯২ দশমিক ৮০১ লাখ মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ৯ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
এছাড়া আইন অমান্য করায় ৯ জন জেলেকে কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। জব্দকৃত মাছ ও অন্যান্য সামগ্রী নিলামের মাধ্যমে সরকার প্রায় ১৭ দশমিক ৫৮ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করেছে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে যান্ত্রিক নৌযান এবং জেলের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এসব এলাকায় অভিযানও বেশি পরিচালিত হয়েছে।
এই কর্মসূচির বাস্তবায়নে Department of Fisheries, Bangladesh Coast Guard, Naval Police এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামুদ্রিক মাছের প্রজনন মৌসুমে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাছের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং জেলেদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক লাভ নিশ্চিত হবে।
তবে অনেক জেলে এই সময় আয়-রোজগার কমে যাওয়ায় আর্থিক চাপে পড়েন। এজন্য সরকার বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচিও চালু রেখেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সব মিলিয়ে, সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় সরকারের এই অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, দীর্ঘমেয়াদে এই উদ্যোগ দেশের মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ ও টেকসই করে তুলবে।