
তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর C. Joseph Vijay-কে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় মোদি এই শুভেচ্ছা জানান।
প্রধানমন্ত্রী তার বার্তায় বলেন, “তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করায় থিরু সি জোসেফ বিজয়কে আন্তরিক অভিনন্দন।” একই সঙ্গে তিনি নতুন দায়িত্ব পালনে বিজয়ের সফলতা কামনা করেন।
মোদি আরও উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার তামিলনাড়ুর উন্নয়ন ও জনগণের জীবনমান উন্নয়নে রাজ্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে। তার এই বার্তাকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা, কারণ নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক কেমন হবে তা নিয়ে আগে থেকেই আলোচনা চলছিল।
এর আগে রবিবার সকালে Jawaharlal Nehru Stadium-এ জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন থালাপতি বিজয়। অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক সমর্থক, রাজনৈতিক নেতা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের বিভিন্ন জাতীয় রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে পুরো চেন্নাই শহরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
শপথ গ্রহণের আগে Rahul Gandhi-র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বিজয়। এই সাক্ষাৎ নিয়েও রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে ভবিষ্যৎ জাতীয় রাজনীতির সম্ভাব্য সমীকরণের অংশ হিসেবে দেখছেন।
শপথের পর দেওয়া প্রথম ভাষণে বিজয় নিজেকে একজন “সাধারণ মানুষ” হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক বংশ বা রাজকীয় পরিবার থেকে না এসেও জনগণ তাকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মিথ্যা প্রতিশ্রুতির রাজনীতিতে তিনি বিশ্বাস করেন না। তার লক্ষ্য হবে প্রকৃত ধর্মনিরপেক্ষতা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং জনগণকেন্দ্রিক প্রশাসন গড়ে তোলা।
নতুন মুখ্যমন্ত্রী তামিলনাড়ুর জনগণের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, পরিবর্তন আনতে সময় প্রয়োজন। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের চেষ্টা করবেন।
সরকার পরিচালনা প্রসঙ্গে বিজয় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমাকে ছাড়া আর কোনো ক্ষমতার কেন্দ্র থাকবে না। আমিই একমাত্র ক্ষমতার কেন্দ্র।” তার এই বক্তব্য ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জনপ্রিয় অভিনেতা থেকে রাজনীতির শীর্ষে উঠে আসা বিজয়ের এই যাত্রা দক্ষিণ ভারতের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। তার জনপ্রিয়তা এবং রাজনৈতিক অবস্থান আগামী দিনে শুধু তামিলনাড়ু নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে, থালাপতি বিজয়ের শপথ এবং তাকে মোদির অভিনন্দন ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।