
দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে সাবেক দুই প্রতিমন্ত্রীর আয়কর নথি জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার (১০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক সাব্বির ফয়েজ এই আদেশ দেন।
আদালতের নির্দেশ পাওয়া দুই সাবেক প্রতিমন্ত্রী হলেন Zahid Ahsan Russell এবং Meher Afroz Chumki। তারা যথাক্রমে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ছিলেন।
জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন বা Anti-Corruption Commission (দুদক) পৃথক দুটি আবেদনের মাধ্যমে আদালতের কাছে তাদের আয়কর নথি জব্দের অনুমতি চায়। পরে আদালত আবেদনগুলো মঞ্জুর করেন।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে আদালত এই আদেশ দিয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এবং দুদকের সহকারী পরিচালক মিনহাজ বিন ইসলাম আদালতে উল্লেখ করেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্টদের আয়কর নথি সংগ্রহ ও জব্দ করা প্রয়োজন। তদন্তের বিভিন্ন তথ্য যাচাই এবং সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে এসব নথি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
দুদকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, আর্থিক লেনদেন, সম্পদ বিবরণী এবং কর সংক্রান্ত তথ্য তদন্তে সহায়ক হবে। বিশেষ করে ঘোষিত আয় ও সম্পদের মধ্যে কোনো অসামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে এই নথিগুলো প্রয়োজন।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের একাধিক সাবেক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত কার্যক্রম জোরদার হয়েছে। বিভিন্ন মামলায় ব্যাংক হিসাব জব্দ, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং সম্পদের তথ্য চাওয়ার মতো পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় আয়কর নথি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়। কারণ এসব নথির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আয়, সম্পদ এবং আর্থিক কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পাওয়া যায়।
অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ দেশের রাজনৈতিক পরিবেশেও প্রভাব ফেলছে। এসব মামলার অগ্রগতি এখন জনমনে ব্যাপক আগ্রহের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। আদালতের এই আদেশের পর তদন্ত কার্যক্রম আরও এগোবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, সাবেক দুই প্রতিমন্ত্রীর আয়কর নথি জব্দের আদালতের নির্দেশ দুর্নীতি তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তদন্তের পরবর্তী ধাপে কী তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।