
বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন আচরণবিধি চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে সংস্থাটি। নতুন বিধিমালার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, প্রার্থী হওয়ার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকলে যে কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে। ফলে কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন বা প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না। একই সঙ্গে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ভিত্তিতে আলাদা কোনো বিধিনিষেধও রাখা হয়নি।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, নতুন আচরণবিধিতে কোনো দলকে বাদ দেওয়ার মতো কোনো বিধান রাখা হয়নি। নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকলেই যে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন। এর ফলে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী বা সমর্থকরাও নির্দলীয় পরিচয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
নতুন খসড়ায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বাড়ানো হবে। অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ থাকছে না। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন সংগ্রহের বিধানও বাতিল করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং ভোটগ্রহণে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের সুযোগও রাখা হয়নি। পাশাপাশি পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থাও থাকছে না।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়েই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হতে পারে। আগামী আগস্টে এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে পৌরসভা, উপজেলা ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিধিমালাও চূড়ান্ত করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হলে ভোটের সমীকরণে পরিবর্তন আসতে পারে। জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে না পারা আওয়ামী লীগের সমর্থকরা এবার নিজেদের পছন্দের প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। ফলে স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।