
বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে অস্থায়ীভাবে নির্মাণ করা একটি ইটের সড়ক সফর শেষে অপসারণ করা হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। একদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এটিকে স্থায়ী সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করছে, অন্যদিকে ব্যয়, প্রয়োজনীয়তা এবং স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিভিন্ন মহলের মানুষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চৌকির খাল হয়ে জিয়াবাড়ী পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার সড়ক উন্নয়নের জন্য আগেই সরকারি বরাদ্দ অনুমোদিত ছিল। প্রকল্পের আওতায় সড়কটি পাকাকরণ বা কার্পেটিং করার পরিকল্পনা রয়েছে। দরপত্র প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ২০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর বগুড়া সফরকে কেন্দ্র করে সড়কটি দ্রুত চলাচল উপযোগী করার প্রয়োজন দেখা দেয়। এ সময় স্থায়ী নির্মাণকাজ সম্পন্ন না হওয়ায় অস্থায়ীভাবে ইট বিছিয়ে সড়কটি ব্যবহারযোগ্য করা হয়। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইটগুলো ক্রয় করা হয়নি; বরং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভাড়ায় এনে ব্যবহার করা হয়েছিল।
সফর শেষ হওয়ার পর সেই ইটগুলো আবার সরিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, স্থায়ী উন্নয়নকাজ শুরু করার সুবিধার্থেই অস্থায়ীভাবে ব্যবহৃত ইট অপসারণ করা হয়েছে। তাদের মতে, স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার উপযোগী কোনো অস্থায়ী কাঠামো নির্মাণের প্রয়োজন ছিল না।
এলজিইডির দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ইট ভাড়ার ব্যবস্থার মাধ্যমে সরকারি অর্থ সাশ্রয় হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নকাজে কোনো জটিলতা সৃষ্টি হয়নি। তারা আরও জানান, প্রকল্পের আওতায় নির্ধারিত মান অনুযায়ী সড়ক নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে এবং কিছু প্রশাসনিক ও সীমানাসংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনাও দেখা দিয়েছে। সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিয়ে কাজ করা কয়েকজন স্থানীয় পর্যবেক্ষক প্রশ্ন তুলেছেন, যখন একটি স্থায়ী উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র ও কার্যাদেশ সম্পন্ন ছিল, তখন শুধুমাত্র সফর উপলক্ষে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার যৌক্তিকতা কতটুকু। তাদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
তবে স্থানীয় অনেক বাসিন্দা দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির স্থায়ী উন্নয়নের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এখন প্রকল্প বাস্তবায়নের দৃশ্যমান অগ্রগতি শুরু হওয়ায় তারা আশাবাদী। তাদের প্রত্যাশা, অস্থায়ী ব্যবস্থার বিতর্ক পেছনে ফেলে দ্রুত স্থায়ী ও টেকসই সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন হবে।
এলাকাবাসীর মতে, সড়কটির উন্নয়ন হলে স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে। কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগামী শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত আরও সহজ ও নিরাপদ হবে। পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও গতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে বাগবাড়ী ও জিয়াবাড়ী এলাকার যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন ঘটবে এবং দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে। ফলে এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নের দিকেই এখন সবার নজর।