
জীবনে দুঃখ, কষ্ট, হতাশা কিংবা কঠিন পরীক্ষার সময় অনেক মানুষ আবেগের বশবর্তী হয়ে মৃত্যু কামনা করে বসে। যখন চারপাশ অন্ধকার মনে হয়, হৃদয় ভেঙে যায় এবং জীবনের বোঝা অসহনীয় মনে হয়, তখন অনেকেই বলে ওঠেন—‘মরে গেলেই যেন শান্তি মিলত!’ কিন্তু ইসলাম মানুষকে হতাশার শিক্ষা দেয় না। বরং ধৈর্য, আশা ও আল্লাহর ওপর ভরসা রাখার শিক্ষা দেয়।
একজন মুমিন বিশ্বাস করে, জীবন ও মৃত্যু উভয়ই মহান আল্লাহর হাতে। মানুষের প্রতিটি কষ্ট, বিপদ ও দুঃখের মধ্যেও আল্লাহর রহমত নিহিত থাকে। কখনো এসব কষ্ট গুনাহ মাফের কারণ হয়, আবার কখনো মর্যাদা বৃদ্ধির মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়। তাই কোনো অবস্থাতেই সরাসরি মৃত্যু কামনা করা ইসলামে উৎসাহিত করা হয়নি।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) উম্মতকে শিক্ষা দিয়েছেন, কষ্টে পড়ে মৃত্যু কামনা না করে আল্লাহর কাছে কল্যাণ কামনা করতে। তিনি এমন একটি দোয়া শিখিয়েছেন, যেখানে বান্দা নিজের জীবন ও মৃত্যুর বিষয়টি পুরোপুরি আল্লাহর ইচ্ছার ওপর সোপর্দ করে দেয়।
দোয়াটি হলো—
اَللَّهُمَّ بِعِلْمِكَ الْغَيْبَ وَقُدْرَتِكَ عَلَى الْخَلْقِ، أَحْيِنِي مَا عَلِمْتَ الْحَيَاةَ خَيْرًا لِي، وَتَوَفَّنِي إِذَا عَلِمْتَ الْوَفَاةَ خَيْرًا لِي
এই দোয়ার মধ্যে একজন মুমিনের পূর্ণ আত্মসমর্পণ ও আল্লাহর প্রতি গভীর বিশ্বাস প্রকাশ পায়। এখানে মানুষ নিজের আবেগ কিংবা সাময়িক কষ্টকে প্রাধান্য না দিয়ে আল্লাহর জ্ঞান ও সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। কারণ মানুষ জানে না তার জন্য কোনটি উত্তম—জীবন নাকি মৃত্যু। একমাত্র মহান আল্লাহই ভালো জানেন বান্দার জন্য কোন বিষয়টি কল্যাণকর।
ইসলাম মানুষকে কখনো হতাশ হতে শেখায় না। বরং প্রতিটি সংকটে ধৈর্য ধারণ করতে, আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে এবং ইবাদতের মাধ্যমে হৃদয়কে শক্ত রাখতে উৎসাহিত করে। কষ্টের সময় আল্লাহকে স্মরণ করলে অন্তরে প্রশান্তি আসে এবং মানুষ নতুনভাবে বাঁচার শক্তি খুঁজে পায়।
তাই জীবনের কঠিন মুহূর্তে মৃত্যু কামনা না করে মহানবী (সা.)-এর শেখানো এই দোয়াটি পড়া উচিত। আল্লাহর প্রতি ভরসা রাখা উচিত এবং বিশ্বাস করা উচিত—প্রতিটি কঠিন সময়ের পরই সহজ সময় আসে।
সূত্র : সুনানে নাসায়ি, হাদিস নং : ১৩০৫