
দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ২০২৬ সালের জুন থেকে আগস্ট সময়ের জন্য প্রায় ১৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন খাত ও শিল্প উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বুধবার (১০ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে এই জ্বালানি তেল আমদানি করবে। আমদানি করা তেলের মধ্যে থাকবে গ্যাস অয়েল, জেট ফুয়েল, ফার্নেস অয়েল এবং গ্যাসোলিন।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী চারটি পৃথক প্যাকেজের মাধ্যমে এই তেল আমদানি করা হবে।
প্রথম প্যাকেজ (পি জি-০১)-এর আওতায় সিঙ্গাপুরভিত্তিক ইউনিপেক সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড থেকে গ্যাস অয়েল ও জেট এ-১ আমদানি করা হবে। এই প্যাকেজের আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
দ্বিতীয় প্যাকেজ (পি জি-০২)-এর আওতায় একই ধরনের গ্যাস অয়েল ও জেট এ-১ আমদানি করবে ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড। এই প্যাকেজের মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৭১১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
তৃতীয় প্যাকেজ (পি জি-০৩)-এর আওতায় ফার্নেস অয়েল (১৮০ সিএসটি) আমদানি করা হবে ট্রাফিগুরা প্রাইভেট লিমিটেড থেকে। এই প্যাকেজের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৯০০ কোটি ৫ লাখ টাকা।
চতুর্থ প্যাকেজ (পি জি-০৪)-এর আওতায় গ্যাসোলিন-৯৫ আনলেডেড আমদানি করবে ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড। এ প্যাকেজের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭৪৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা।
সব মিলিয়ে চারটি প্যাকেজের মাধ্যমে মোট ১৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশের সরবরাহ পাচ্ছে ইউনিপেক সিঙ্গাপুর, যার মূল্য প্রায় ৭ হাজার ৬৭৩ কোটি টাকা। অন্যদিকে ভিটল এশিয়া দুটি প্যাকেজের মাধ্যমে প্রায় ৭ হাজার ৪৬১ কোটি টাকার সরবরাহ আদেশ পেয়েছে।
সরকারি সূত্র বলছে, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে জ্বালানি তেল আমদানির এই সিদ্ধান্ত দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ও শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে এই আমদানি কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যেও এমন বড় অঙ্কের আমদানি চুক্তি দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।